নিউ ইয়র্ক: একসময় বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন পৃথিবীকে বাঁচাতে হলে ১২ বছর সময় আছে হাতে। অর্থাৎ মধ্যেই পৃথিবী ও তার জলবায়ুকে সুস্থ করে তুলতে হবে। না হলেই সব শেষ হয়ে যেতে বেশি সময় নেবে না। কিন্তু সেই ডেডলাইন বেশ খানিকটা এগিয়ে আনলেন গবেষকরা।

১২ বছর নয়, হাতে আছে মাত্র দেড়বছর বা ১৮ মাস। তার মধ্যেই সুস্থ হতে হবে পৃথিবীকে। নাহলে মৃত্যু সুনিশ্চিত। এই সময়ের মধ্যে উষ্ণায়নের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।

জলবায়ুর পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত রাষ্ট্রসংঘের একদল বিজ্ঞানী ইন্টার গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) গত বছর বলেছিল যে, এই শতকের মধ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখতে চাইলে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন ৪৫ শতাংশ কমাতে হবে।

কিন্তু সম্প্রতি সেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতটা সময় আর হাতে নেই। কার্বন নির্গমন কমাতে একেবারে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে ২০২০ সালের আগেই।

বিজ্ঞানী এবং পটসড্যাম ক্লাইমেট ইন্সটিটিউটের হ্যান্স জোয়াকিম শেলনহুবার বলেন, ‘জলবায়ুবিষয়ক অঙ্কটা খুব নির্মম। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে হয়ত পৃথিবীর ক্ষত সারিয়ে তোলা সম্ভব নয়, কিন্তু ২০২০ সালের মধ্যে অবহেলা করলে পৃথিবীর যে ক্ষতি হবে তা আর সারানো যাবে না।’

ব্রিটিশ যুবরাজ চার্লসও সম্প্রতি এক বৈঠকে একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আগামী ১৮ মাসেই নির্ধারিত হবে আমরা জলবায়ুর পরিবর্তনকে আমাদের বেঁচে থাকার মাত্রায় আটকে রাখতে পারব কিনা।’

রিপোর্ট বলছে, আগামী বছরের শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রসংঘের অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আছে। ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক অব্যাহত রয়েছ এই চুক্তিটির একটি ‘রুলবুক’ তৈরির জন্য।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী স্বাক্ষরকারী দেশগুলো ২০২০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন কমাতে আরও ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার করেছিল। গত বছর আইপিসিসির রিপোর্টে কার্বন নির্গমন বৃদ্ধির হার ২০২০ সালেই থামিয়ে দেওয়ার টার্গেট নেওয়া হয়েছিল। সেটিও সেভাবে আলোচনা হয়নি।

২০৩০ সাল নাগাদ কার্বন নির্গমন ৪৫ শতাংশ কমাতে পরিকল্পনাগুলো টেবিলে হাজির করতে হবে ২০২০ সাল শেষ হওয়ার আগেই। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসের ডাকা ২৩ সেপ্টেম্বরের বিশেষ জলবায়ু সম্মেলনটি সফলভাবে সম্পন্ন হতে হবে।

ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ডের অধ্যাপক মাইকেল জ্যাকবস বলছেন, যদি সামনের বছর ব্রিটেনের জলবায়ু সম্মেলনের সুযোগ যদি কাজে লাগানো না যায়, তাহলে তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে আটকে রাখার কোনও সুযোগ থাকবে না।’

ব্রিটেনে যখন সামনের বছর এই জলবায়ু সম্মেলন হবে, ঠিক একই সময়ে আমেরিকা হয়তো পাকাপাকিভাবে প্যারিস চুক্তি ছেড়ে বেরিয়ে যাবে। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে গেলে এবং ডেমোক্রেটিক প্রার্থী বিজয়ী হলে উল্টোটাও হতে পারে।