প্রতিদিনের একঘেয়ে রান্নায় একটু ধনে পাতা দিলে রান্নার স্বাদ-গন্ধ দু’টোই এক নিমেষে বদলে যায়৷ তাছাড়া বহু রান্না ধনেপাতা ছাড়া যেন হয়ই না৷ বাজারে গেলে নানান শাক সবজি কেনার সঙ্গে ধনেপাতাও ঠিক জুড়ে থাকে৷ এখন তো প্রায় ১২ মাসই ধনেপাতা পাওয়া যায়৷

ধনেপাতায় আছে ১৫টির অধিক অত্যাবশ্যকীয় ভিটামিন ও খনিজ লবণ৷ ধনেপাতায় ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম থাকে৷ তবে প্রোটিন, ফলেট, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, লোহা ও ম্যাগনেসিয়ামের ভালো উত্স ধনেপাতা৷ খুব অল্প পরিমাণে সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড ও কোলেস্টেরল থাকে৷

অনেকেরই ধারণা, ধনেপাতা শরীর গরম করে৷ এমন ধারণার পিছনে যুক্তিসঙ্গত কোনও কারণ এখনও পাওয়া যায়নি৷ কিন্তু জানেন পরিমাণ বুঝে ধনেপাতা খেলে তা শরীরের নানা অসুখ দূর করে৷ তাই নিত্য খাদ্যতালিকায় এই ধনেপাতা রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা৷ তবে জেনে নেওয়া যাক ধনেপাতার কার্যকারিতা৷

১) ধনেপাতা শরীরের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলকে কমিয়ে উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে৷, ২) যকৃতকে সুস্থ রাখতে এই পাতার জুড়ি নেই৷, ৩) ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য ধনেপাতা অত্যন্ত উপকারী৷ ইনসুলিনের ভারসাম্য বজায় রাখে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে ধনেপাতা৷, ৪) ধনেপাতার মধ্যে সিনিওল এসেনশিয়াল অয়েল এবং লিনোলিক অ্যাসিড থাকে। এগুলো শরীরের পুরনো ও নাছোড় ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।, ৫) ধনেপাতার মধ্যে অ্যান্টিসেপটিক উপাদান থাকায় তা শরীরে টক্সিন দূর করতেও সাহায্য করে৷ এর অ্যান্টিফাঙ্গাল এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট উপাদান বিভিন্ন চর্মরোগ কমায়৷

৬) দাঁত মজবুত করতে ও মাড়ির সুস্থতাতেও কাজে আসে এই পাতা৷, ৭) ধনেপাতার মধ্যে আয়রন থাকে৷ তাই রক্তস্বল্পতা রোধে সাহায্য করে৷, ৮) এটি ফ্যাট সল্যুবল ভিটামিন এবং এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ফুসফুস ও পাকস্থলীর ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে৷, ৯) ধনেপাতায় রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা বাত ব্যথাসহ হাড় ও জয়েন্টের ব্যথা উপশমে কাজ করে৷ এতে প্রচুর ক্যালসিয়াম আছে, যা হাড় মজবুত করে ও সুস্থ রাখে৷ ১০) স্মৃতিশক্তি প্রখর এবং মস্তিষ্কের নার্ভ সচল রাখতে সাহায্য করে ধনেপাতা।

তবে মনে রাখবেন এই ধনে পাতার কিছু খারাপ দিকও আছে৷ সেইগুলিও জেনে রাখা ভালো৷
১) শ্বাস-প্রশ্বাসের রোগী হলেও ধনে পাতা নিয়মিত খাওয়া ক্ষতিকারক৷ সেক্ষেত্রে ইনহেলার নেওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে৷ ২) ধনে পাতা সঠিক মাত্রায় খেলে ত্বক সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষিত থাকে। তবে একইভাবে বাকি কারণগুলির মতো অতিরিক্ত ধনে পাতা সূর্যরশ্মি থেকে ভিটামিন ডি উৎপাদন ক্ষমতা অনেকটা আটকে দেয়৷ যা সমস্যা সৃষ্টি করে৷ ৩) ধনে পাতায় বিভিন্ন অ্যাসিডিক উপাদান থাকে যা অনেকক্ষেত্রে মুখে প্রদাহ তৈরি করতে পারে৷ ৪) গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ধনে পাতা খেলে সন্তানের ক্ষতি করতে পারে৷ এমনকি মাতৃত্বেও অনেক সময়ে বাধা সৃষ্টি করতে পারে৷