গরমে শুধু ফল বা জল বেশি পরিমাণ খেলেই হবে না৷ খেতে হবে সবজিও৷ তবে এমন সব সবজি খাওয়া উচিত যেগুলি শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে৷ যেমন ধরুন লাউ৷ এটি একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর সবজি৷ গবেষণা বলছে, লাউয়ের ভিতরে মজুত রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি, বি এবং ডি, সেই সঙ্গে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ফোলেট, আয়রন এবং পটাশিয়াম, যা নানাবিধ রোগের হাত থেকে শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে৷ সেই সঙ্গে শরীরকে ঠাণ্ডাও রাখে৷ তবে জেনে নেওয়া যাক লাউ-এর উপকারিতা৷

শরীরে জলের অভাব দেখা দেওয়ার আশঙ্কা কমে: শরীরকে চাঙ্গা রাখতে জলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে৷ কারণ দীর্ঘক্ষণ ধরে শরীর তার প্রয়োজনীয় জল না পেলে দেখা দেয় নানা রকমের রোগ৷ তাই তো দেহের ভিতরে যাতে জলের ঘাটতি দেখা না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখাটা আমাদের একান্ত প্রয়োজন৷ আর ঠিক এই কারণেই ভাতের পাতে লাউ থাকা মাস্ট! আসলে এই সবজিটিতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় জল৷ যা দেহের ভিতরে জলেরর অভাব মেটাতে যেমন বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, তেমনি ডিহাইড্রেশনের মতো সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও যায় কমে৷

শরীর ঠাণ্ডা রাখে: অনেক সময়ই শরীরের ভিতরের তাপমাত্রা বেশ বেড়ে যায়, যা একেবারেই ভালো নয়৷ তাই তো সপ্তাহে ২-৩ দিন নিয়মিত লাউয়ের রস খাওয়া উচিত৷ আসলে এই সবজিটিতে যেমন রয়েছে প্রচুর মাত্রায় জল, তেমনি রয়েছে প্রচুর পরিমাণ খনিজও, যা শরীরকে ঠাণ্ডা রাখার পাশাপাশি দেহের ভিতরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদেরও বার করে দেয়৷ ফলে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে৷ তেমনি দেহের ভিতরে তাপমাত্রা বা প্রাদাহ বাড়ার সম্ভাবনাও আর থাকে না৷

ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে: উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা যারা ভুগছেন তাদের ডায়েটে লাউ দিয়ে তৈরি কোনও না কোনও পদ থাকা বেজায় জরুরি৷ কারণ এতে রয়েছে এমন কিছু পুষ্টিকর উপাদান, যা রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে৷ আর রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলে হার্টের স্বাস্থ্যও ভালো হয়ে ওঠে৷ আর হার্ট যখন চাঙ্গা হয়ে ওঠে তখন সার্বিকভাবে আয়ুও যে বৃদ্ধি পায়, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে৷

ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ে চোখে পরার মতো: লাউয়ে উপস্থিত বিশেষ কিছু উপাদান শরীরে প্রবেশ করে এমন খেল দেখায় যে ত্বক ভিতর থেকে স্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে৷ ফলে সৌন্দর্য তো বাড়েই৷ সেই সঙ্গে তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যাও নিয়ন্ত্রণে চলে আসে৷ এই কারণেই তো প্রতিদিন লাউয়ের রস বা এই সবজিটি দিয়ে তৈরি কোনও না কোনও পদ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে৷ মাত্রতিরিক্ত ঘাম হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়৷ সেই সঙ্গে ব্রণের মতো ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও আর থাকে না৷

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়: বেশ কিছু পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রতিদিন লাউয়ের রসের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বৃদ্ধি পায়৷ ফলে সংক্রমণের পাশপাশি ছোট-বড় নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে৷ এবার নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন, ওয়েদার চেঞ্জের সময় লাউয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতানোর প্রয়োজন কতটা৷

ওজন কমে চোখে পরার মতো: যে কোনও ভাবেই হোক তা তরকারি বানিয়ে অথবা রস হিসেবে, লাউ খাওয়া শুরু করলে শরীরে ফাইবারের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে৷ ফলে খিদে কমে যায়৷ সেই সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কমে খাওয়ার পরিমাণও৷ আর কম খেলে ওজন যে দ্রুত কমে, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে৷

হজমে সাহায্য করে: লাউয়ে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় এবং অদ্রবনীয় ফাইবার আছে৷ দ্রবণীয় ফাইবার খাবার সহজে হজম করগরমেতে সাহায্য করে এবং হজম সংক্রান্ত সকল সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে৷ এছাড়াও নিয়মিত লাউ খেলে অ্যাসিডিটি ও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার সমাধান করে৷ অদ্রবণীয় ফাইবার পাইলসের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে৷