চণ্ডীগড়: নৃশংসভাবে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রকে খুনের ঘটনায় উত্তপ্ত গুরুগ্রাম৷ এই ঘটনা দিল্লির রানিবাগে শিশু হত্যার স্মৃতিকেই উস্কে দিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার হরিয়ানার গুরুগ্রামের রায়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ক্যাম্পাস থেকে উদ্ধার হয় দ্বিতীয় শ্রেণির এক পড়ুয়ার গলার নলি কাটা রক্তাক্ত দেহ৷ ঘটনায় স্কুল বাসের কনডাক্টর অশোক কুমারকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷

ধৃতকে জেরা করে পুলিশ জানার চেষ্টা করছে, ঠিক কি কারনে তিনি সাত বছরের একটি দুধের শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যা করলেন৷ ধৃতের মানসিক ভারসাম্যও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা৷ ঘটনায় আরও ৯জনকে আটক করে জেরা করছেন তদন্তকারীরা৷

গুরুগ্রাম পুলিশের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক রবীন্দ্র কুমার বলেন, ‘‘খুনের ঘটনায় আরও তথ্য পেতে আমরা স্কুল ও সংলগ্ন সিসিটিভি-র ফুটেজ খতিয়ে দেখছি৷ ধৃত ও আটক ব্যক্তিদের জেরা করে জানার চেষ্টা চলছে যে ঠিক কি কারনে এই নৃশংস হত্যা৷’’

মৃত ছাত্রর নাম প্রদ্যুমান ঠাকুর৷ স্কুল ক্যাম্পাসে তার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে সহপাঠীরাই খবর দেন স্কুল কর্তৃপক্ষকে৷ স্কুলের তরফে পুলিশে খবর দেওয়া হয়৷ যদিও শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ এদিকে মৃত শিশুর পরিজনদের অভিযোগ, সঠিক সময়ে প্রদ্যুমানকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে হয়তো তাঁকে বাঁচানো যেত৷ এরপরই স্কুল কর্তৃপক্ষর বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে স্কুলে ভাঙচুর চালান একাংশ মানুষ৷

এদিকে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ মৃতদেহর পাশ থেকে একটি রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করেছে৷ যা দেখে প্রাথমিক তদন্ত থেকে পুলিশের অনুমান, গলার নলি কেটেই সাত বছরের ওই শিশুকে হত্যা করা হয়েছে৷ শিশুটি এমন কিছু দেখে ফেলেছিল কি, যার জন্য তাকে খুন করা হল, এই বিষয়টিও ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের৷

এক পুলিশ অফিসার বলেন, ‘‘তদন্তে সবদিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ ধৃত ব্যক্তিকে ও সন্দেহভাজন আটক ৯ জনকে জেরা করে জানার চেষ্টা চলছে যে ঠিক কি কারনে তাকে হত্যা করা হল৷’’

চলতি বছরের জুনে দিল্লির রানিবাগে রাস্তার ধারে একটি বন্ধ গাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছিল বছর ছয়েকের এক শিশুর দেহ৷ ওই ঘটনায় দেশ জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল৷ প্রশ্ন উঠেছিল, মাত্র ছ’বছরের দুধের শিশু কি কারও শত্রু হতে পারে? কোন আক্রোশে খুন হতে হল তাকে? তিন মাসের ব্যবধানে সেই একই প্রশ্ন উঠছে গুরুগ্রামের রায়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায়৷

Advertisements