মুম্বই: সাধারণ মানুষের কাছে ডাক্তার হল ভগবানের এক অন্যরূপ। যারা জটিল থেকে জটিলতম রোগের হাত থেকে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের বাঁচিয়ে নবজীবন দেন। কিন্তু সেই ডাক্তাররাই যদি ছলনার আশ্রয় নেয় তাহলে সাধারণের কাছে তা ভয়ের কারণ হয়ে ওঠে। সম্প্রতি এইরূপ চিত্র দেখা গিয়েছে বাণিজ্য নগরীতে। মঙ্গলবার মুম্বইয়ের ছয়টি জায়গাতে তল্লাশি করে ছয়জন কোয়াক ডাক্তারকে গ্রেফতার করে সেখানকার ক্রাইম ব্রাঞ্চের পুলিশ অফিসারেরা। তাঁরা পূর্ব শহরতলির ছয় জায়গাতে এই তল্লাশি চালিয়েছিলেন।

জানা গিয়েছে গ্রেফতার হওয়া ডাক্তারদের অধিকাংশ স্কুল পাশই করেননি। অনেকে কেবলমাত্র ক্লাস ৫ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। প্রথাগত শিক্ষা না থাকা সত্ত্বেও ভুয়ো ডাক্তারের পরিচয় দিয়ে তাঁরা কয়েক বছর ধরে রোগীদের জটিল অস্ত্রোপচারও করেছেন।

এই বিষয় নিয়ে মুম্বই পুলিশ অফিসারেরা সূত্র মারফত খবর পেয়েছিলেন। কিন্তু নিশ্চিত হওয়ার পরেই তাঁরা তল্লাশি শুরু করেছিলেন। আর তারপরেই গ্রেফতার করা হয় এই কোয়াক ডাক্তারদের।

প্রাথমিক ভাবে মানতে না চাইলেও কড়া পুলিশি জেরার মুখে তাঁরা জানিয়েছেন কোনরকম ডাক্তারি সার্টিফিকেট না থাকা সত্ত্বেও তাঁরা রোগীদের অপারেশন করেছেন। এও জানিয়েছেন অনেকে স্কুল সম্পূর্ণ করেননি।

গ্রেফতার হওয়া ডাক্তারদের মধ্যে মুকুল অমর কিসান্দাস ক্লাস ১১ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। কামরুদ্দিন মারুফি ক্লাস ১২ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। মাকসুদ আনসারি, মুখতার আলি শাহ ক্লাস ৫ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। এছাড়াও কিশমাত শাহ ক্লাস ৮ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। কারোর প্রথাগত ডাক্তারি শিক্ষা নেই।

এক উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্মচারী জানিয়েছেন, গ্রেফতার হওয়া ব্যাক্তিদের সামান্য ওয়ার্ড বয় বা প্যারামেডিক্যালে সহায়ক হিসেবে কাজ করার কোন যোগ্যতা নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁরা এতদিন ধরে ডাক্তারি করেছেন। ছোট্ট শিশু থেকে প্রবীণ নাগরিকদের ওষুধ দিয়েছেন। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। গ্রেফতার হওয়া ছ’জনকে শিবাজী নগর পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে । আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি তাঁদের আদালতে তোলা হবে বলেও জানানো হয়েছে।