শ্রীনগর: ঈদের সকালে অশান্তির কালো মেঘ কাশ্মীর জুড়ে৷ সকাল থেকেই জঙ্গি হানা নিয়ে উত্তপ্ত ছিল ভূস্বর্গ৷ এর সঙ্গে যুক্ত হল কাশ্মীরের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভের ঘটনা৷ বুধবার সকাল থেকেই কাশ্মীরের বিভিন্ন জেলা থেকে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের খবর মেলে৷

ঈদের নমাজ পাঠ শেষ হতেই সংঘর্ষ শুরু হয়৷ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়তে থাকে বেশ কয়েক জন যুবকের একটি দল৷ শ্রীনগর, পুলওয়ামা, সোপোর, বারামুলা ও অন্যান্য জায়গায় এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে৷ বারামুলা জেলার সোপোরের জামিয়া মসজিদের সামনেই সংঘর্ষ শুরু হয়৷

আরও পড়ুন : ভোট কৌশলের অঙ্গ বাস-মেট্রোয় মহিলাদের ভাড়া ছাড়, শীলার নিশানায় কেজরি

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন কাশ্মীরের স্বাধীনতা দাবি করে শ্লোগান দিচ্ছিল ওই যুবকরা৷ শোনা গিয়েছে ভারত বিরোধী শ্লোগানও৷ পরিচয় গোপন করার জন্য ওই যুবকদের মুখে কালো কাপড় বাঁধা ছিল৷ পাকিস্তান ও কিছু জঙ্গি সংগঠনের পতাকা তুলে ধরে শ্লোগান দিচ্ছিল ওই যুবকরা বলে অভিযোগ স্থানীয়দের৷ রাস্তা জুড়ে বিক্ষোভ মিছিল করার চেষ্টা করেছিল ওই যুবকরা৷ তবে পুলিশ তাদের বাধা দেয়৷ মিছিল আটকাতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোঁড়ে পুলিশ৷

এলাকার পরিস্থিতি শান্ত করতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়৷ সোপোর ছাড়াও এক মহিলা সহ দুজনকে গুলি করে খুন করার ঘটনা ঘটে৷ এক যুবক গুরুতর জখম হয়৷ ঈদের সকালে পুলওয়ামায় ঘটে এই ঘটনা৷ এক পুলিশ আধিকারিক জানান, পুলওয়ামার সিঙ্গু-নারবালে এক ব্যক্তি এবং মহিলাকে টার্গেট করে গুলি চালায় জঙ্গিরা৷ ওই ব্যক্তি বাঁচানো সম্ভবপর হলেও, মহিলাকে বাঁচানো যায়নি৷ মৃতের নাম নিগিনা বানো বলে জানা গিয়েছে৷ ওই দুজনকে কেন টার্গেট করা হল, কোনও পুরনো শত্রুতা ছিল না সেই প্রশ্নও উঠছে৷ জখম যুবককে চিকিৎসার জন্য শ্রীনগরের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে৷

আরও পড়ুন : ঈদের জমায়েতে মুখ্যমন্ত্রীর গলায় ‘জয় বাংলা’, ‘জয় ভারত’ ধ্বনি

গতকালই ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয় এক তালিকা৷ যে তালিকায় রয়েছে কাশ্মীর উপত্যকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করা ১০ মোস্ট ওয়ান্টেড টেররিস্টের নাম৷ নর্দার্ন কমাণ্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ইন চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল রণবীর সিং জানান, এখনও পর্যন্ত এই বছরে ৮৬ জন জঙ্গিকে নিকেশ করা সম্ভব হয়েছে৷ ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রেখেছে ভারতীয় সেনা৷ কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করে জেনারেল সিং বলেন আটক হওয়া জঙ্গিদের জীবনের মূল স্রোতে ফেরানোর কাজ করছে সেনা৷ যা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং৷

এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি গোষ্ঠীর অন্যতম মাথা ও উপত্যকায় হিজবুলের প্রধান রিয়াজ আহমেদ নাইকুর নাম৷ নাইকু ২০১০ সাল থেকে হিজবুলের সঙ্গে যুক্ত৷ কাশ্মীরে একাধিক নাশকতার সঙ্গে সে জড়িত বলে অভিযোগ৷ এই নামগুলি প্রকাশ করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও সংগঠিত করতে চাইছে ভারতীয় সেনা বলেই খবর৷