ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের কোলসরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেতাজির জন্মদিন পালনকে কেন্দ্র করে ছড়াল ব্যাপক উত্তেজনা। স্কুলের অভিভাবক এবং গ্রামবাসীরা এক শিক্ষককে মারধর করে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

কোলসরা গ্রামের বাসিন্দা অরুণাভ পাল জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই কোলসরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার আচরণ তাঁদের ঠিক লাগছিল না। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক শিক্ষা দফতরে অভিযোগও জানানো হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেছেন, এর আগেও ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দুই ছাত্রকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। অরুণাভ আরও বলেন, এদিন নেতাজীর জন্মদিন থাকলেও স্কুলের পক্ষ থেকে তা পালন করা হয়নি। অন্যদিকে, আগের দিন অর্থাৎ বুধবার ২২ জানুয়ারী নেতাজির জন্মদিন পালন করে ২৩ জানুয়ারি স্কুলে ছুটি ঘোষণা করা হয়।

এই ঘটনা জানার পরই তাঁরা স্কুলে আসেন। তিনি জানিয়েছেন, গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে তাঁরা এই ঘটনার বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে চলেছেন। যদিও এব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ইন্দিরা হালদার জানিয়েছেন, বুধবার তাঁরা স্কুলের পক্ষ থেকে নেতাজিকে শ্রদ্ধা জানাতে ছেলেমেয়েদের নিয়ে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠান করেছেন। কিন্তু বুধবারই তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকায় তিনি ডিআই অফিসে ব্যস্ত ছিলেন। তাই বৃহস্পতিবারের প্রোগ্রাম নিয়ে ঠিকমত ব্যবস্থা নিতে পারেননি।

প্রধান শিক্ষিকা জানিয়েছেন, বিষয়টি ভুল হয়েছে বুঝতে পেরেই তিনি এদিন স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকদের স্কুলে আসার জন্য তিনি নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তিনি নিজেও স্কুলে আসেন সাড়ে ১০ টা নাগাদ। এমনকি তিনিই এলাকার ছেলেমেয়েদের ডেকে নিয়ে আসেন স্কুলে নেতাজির জন্মদিন পালন করবেন বলেই। কিন্তু তার আগেই কিছু মানুষ এসে স্কুলে জড়ে হয়। তারাই অনুষ্ঠান করতে বাধা দেয়। এমনকি তাঁকে কার্যত ঠেলতে ঠেলতে স্কুল থেকে বাইরে বার করে দেওয়া হয়।

এরই পাশাপাশি সোমনাথ দাস নামে এক শিক্ষককে কার্যত ঘাড় ধাক্কা দিয়ে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাঁর মোটরবাইকটিকেও ভাঙচুর করার চেষ্টা করেন তাঁরা। গোটা বিষয়টি নিয়ে তাঁরা রীতিমত অপমানিত এবং হতচকিত হয়ে পড়েছেন। প্রধান শিক্ষিকা জানিয়েছেন, তিনি বারবার ওই ব্যক্তিদের গোটা বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করলেও তাঁর কথা কেউ শোনেননি। প্রধান শিক্ষিকা জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি তিনি জেলা স্কুল পরিদর্শককে জানাচ্ছেন।