কলকাতা:  নতুন করে ফের উত্তেজনা এনআরএস হাসপাতালে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে হঠাত করেই একদল বহিরাগত আন্দোলনকারী ডাক্তারদের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। হকিস্টিক হাতে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও সেই সময় আন্দোলন মঞ্চে কেউ না থাকায় বড়সড় গণ্ডগোল এড়ানো সম্ভব হয় বলে দাবি এনআরএসের জুনিয়র ডাক্তারদের। এরপরেই ফের হাসপাতালের মূল গেট বন্ধ করে দেন আন্দোলনকারী ডাক্তাররা। বের করে দেওয়া হয় বহিরাগতদের। এমনকি হাসপাতালের মধ্যে থেকে পুলিশকেও জুনিয়র ডাক্তাররা বার করে দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে হাসপাতাল চত্বর।

গেটের বাইরে একদল বহিরগাত অন্যদিকে গেটের ভিতরে আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা। গোটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। মাঝে ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়েছে। যে কোনও পরিস্থিতির মোলাবিলা করতে তৈরি তাঁরা। কিন্তু হকিস্টিক হাতে হঠাত করে আন্দোলনকারীদের উপর কেন চড়াও হল তাঁরা? পরিচিয়ই বা কি? এখনও পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি। তবে পরিস্থিতি রীতিমত উত্তপ্ত।

ইমারজেন্সি চালু রাখার নির্দেশের পরেই আজ এনআরএসের মূল গেট খুলে দেওয়া হয়। রোগীরা যাতে হাসপাতালে নুন্যতম চিকিৎসা করাতে পারেন সেজন্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু গেট খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, হঠাত করেই একদল বহিরাগত তাঁদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তাঁদের লক্ষ্য করে ইট-জলের বোতলও ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ আন্দোলনকারী ডাক্তারদের। এমনকি তাঁদের আন্দোলনমঞ্চও ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে মারাত্মক অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। আর তা আটকাতে গেলে বহিরাগত এবং জুনিয়র ডাক্তারদের মধ্যে ধস্তাধস্তি বেঁধে যায়। যদিও কোনও প্রকারে বহিরাগতদের বার করে দেন জুনিয়র ডাক্তাররা। এরপরেই গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।

তবে জানা যাচ্ছে হকিস্টিক হাতে যে সমস্ত বহিরাগত এদিন হামলা চালিয়েছে তাঁরা নিজেদের রোগীর আত্মীয় হিসাবে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁদের একজনের দাবি, গত তিনদিন ধরে চিকিৎসা হচ্ছে না। মানুষ মরতে বসেছে। আর ডাক্তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। আর সেই কারণে এই সিদ্ধান্ত বলে এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন এক রোগীর আত্মীয়।

তবে এদিনের এই ঘটনায় নতুন করে আন্দোলনকে অন্যমাত্রা দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনআরএসে না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।