স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর : করোনা আবহের মধ্যেই ফের নতুন করে তৃণমূল বিজেপির রাজনৈতিক সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর।

জানা গিয়েছে, হালিশহর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বোলদেঘাটা,বৈদ্যপাড়া এলাকায় রাতভর চলে বোমা,গুলির লড়াই। ভাঙচুর করা হয় বিজেপির একাধিক দলীয় কার্যালয়। বিজেপি কর্মীরাও পাল্টা আগুন লাগিয়ে দেয় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয়ে। উভয় রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকটি মোটর সাইকেল আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার জেরে গোটা হালিশহর পুরসভা এলাকা জুড়ে সোমবার সকাল থেকে চলে পুলিশি টহল । তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন জখম হয়েছে ।

রবিবার রাতে হালিশহরে বিজেপি তৃণমূল সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ।

বারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং রবিবার সন্ধ্যায় উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এক দলীয় কর্মীর বাড়িতে দলীয় কর্মসূচীতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। অর্জুন সিংয়ের অভিযোগ, “আমি দলীয় কর্মীর বাড়ির বাইরে গাড়ি রেখেছিলাম। আমার দলের অন্য কর্মীদেরও গাড়ি সেখানে রাখা ছিল। হঠাৎ খবর পাই আমার গাড়িতে ভাঙচুর করা হচ্ছে।

আমি নেমে আসতেই ওরা পালিয়ে যায়। যারা ভাঙচুর করেছে তারা সবাই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী ছিল। বীজপুরের এক গুন্ডা সুবোধ অধিকারী পুলিশের সামনে দুষ্কৃতীদের নিয়ে এসে আমার গাড়িতে ভাঙচুর করেছে। তারপরই আমাদের কর্মীরা ওদের প্রতিরোধ করে। বাংলায় যে গনতন্ত্র নেই আজ ফের প্রমাণিত হল। সুবোধ অধিকারীর নেতৃত্বে আমাদের উপর হামলা হল।”

এদিকে অর্জুন সিংয়ের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার পরই বিজেপি কর্মীরা হালিশহরের বোলদেঘাটা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। রাস্তার পাশে থাকা তৃণমূল কর্মীদের বেশ কয়েকটি বাইকে আগুন লাগানো হয়। অভিযোগ এই ঘটনার ছবি করতে গিয়ে আক্রান্ত হন বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও। কেড়ে নেওয়া হয় এক সাংবাদিকের দামী মোবাইল ফোন। পরে কোনও রকমে আক্রান্ত সাংবাদিক প্রাণে বেঁচে ফেরে।

এদিকে অর্জুন সিং তৃণমূল নেতা সুবোধ অধিকারীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন, সেই অভিযোগ সম্পর্কে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারন সম্পাদক সুবোধ অধিকারী বলেন, “অর্জুন সিং হালিশহরে গুন্ডামি করতে এসেছিল। ওর গুন্ডামি আজ মানুষ দেখেছে। আমি ছিলাম নৈহাটিতে। সেখানে বিজেপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে আমাদের দলে অসংখ্য কর্মী যোগদান করছিল। অর্জুন সিং এখন হতাশ হয়ে গেছে। ও ভাবছে ওর পাশে কেউ নেই। তাই ও ওর সি আর পি এফ নিয়ে এসে আমার উপর হামলা করতে যায়। সাধারন মানুষ সংঘবদ্ধ ভাবে ওর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে

প্রতিরোধ গড়ে তোলে। অর্জুন সিং নিজে দাঁড়িয়ে থেকে পেট্রোল ঢেলে আমাদের পার্টি অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয়। ওকে চ্যালেঞ্জ করছি আমি, সি আর পি এফ বাদ দিয়ে ও আসুক, আমিও দেহরক্ষী ছাড়া ওর সঙ্গে ময়দানে লড়তে প্রস্তুত । ওর গুন্ডামি মানুষ আজ দেখল । একজন গুন্ডা সাংসদ হলে কি করতে পারে সবাই দেখনো ।”

দিকে সাংসদ অর্জুন সিংয়ের অভিযোগ, সুবোধ অধিকারী পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি কর্মীদের বাড়ি ভেঙ্গেছে, দলীয় কার্যালয় ভেঙে দিয়েছে ।” এদিকে হালিশহরের ঘটনার জেরে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির পার্টি অফিসে ভাঙচুর করা হয়েছে । বিজেপির উপর এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে এদিন বিজেপি কর্মীরা বারাকপুর, নৈহাটি, পানপুর, বাসুদেবপুর এলাকায় পথ আবরোধ কর্মসূচি পালন করে।

হালিশহরের বোলদেঘাটায় তৃণমূলের যে পার্টি অফিসে আগুন লাগানো হয়েছিল সোমবার সেখানে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে ধর্না কর্মসূচি পালন করা হয় এবং সাংসদ অর্জুন সিংয়ের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয় প্রশাসনের কাছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে বলতে গিয়ে নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক বলেন, “বিজেপির সঙ্গে মানুষ নেই। অর্জুনের দল থেকে সবাই তৃণমূল ফিরছে। ও হতাশ হয়ে গুন্ডামি শুরু করেছে। ওকে চ্যালেঞ্জ করে বলছি, ও যদি এক বাপের ব্যাটা হয় তবে সি আর পি এফ বাদ দিয়ে এসে সুবোধের সঙ্গে লড়াই করে জিতে দেখাক, বুঝব ওর কত দম । দিলীপ ঘোষ বলেছিল বদলা হবে, অর্জুন সেই কথা মত কাজ করছে ।”

উত্তপ্ত হালিশহরে সকাল থেকে চলছে বীজপুর থানার পুলিশের টহল অভিযান। এদিন শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন হলেও আজকের দিনটা বিজেপি কর্মীরা রাস্তায় নেমে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে কাটাল।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ