নয়াদিল্লি: ক্লিনচিট পেলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ৷ তিন বিচারপতির প্যানেল তাঁকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ থেকে মুক্তি দিল৷ এই ইন-হাউস কমিটিতে ছিলেন বিচারপতি এসএ বোবদে, বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা ও বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সেই মামলার শুনানিতে তিন বিচারপতিই গগৈকে ক্লিনচিট দেন৷ তাঁকে এই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন৷

শীর্ষ আদালতের সেক্রেটারি জেনারেল জানিয়েছেন, এই রিপোর্ট উদ্ধতন বিচারপতির হাতে জমা দেওয়া হবে৷ তবে রিপোর্টে কি রয়েছে, তা প্রকাশ্যে আনা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে৷ তবে রঞ্জন গগৈর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সারবত্তা ছিল না বলেই জানা গিয়েছে৷

এদিকে এর আগে, ৩৫ বছর বয়সী এক মহিলা (জুনিয়র কোর্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট) সুপ্রিম কোর্টে ২২ বিচারপতিকে তাঁর অভিযোগের কথা লিখিত জানান৷ সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, ওই মহিলার অভিযোগ ছিল, গত বছর ১০ এবং ১১ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ তাঁর বাসভবনে ওই মহিলাকে যৌন হেনস্তা করেন৷

ওই মহিলার অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে আলিঙ্গন করে তার ওপর জোরজবরদস্তি করা হয়৷ এবং সে চলে যেতে চাইলেও তাকে যেতে দেওয়া হয়নি৷ কভারিং লেটারে ওই মহিলা একটি এফিডেভিটে বিস্তারিত জানান সবকিছু৷

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি৷ সেক্রেটারি জেনারেল সঞ্জীব কুমার সুধাকর কালগাঁওকর বলেন, এই অভিযোগ গগৈয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য আনা হয়েছে৷ এগুলির কোনও ভিত্তি নেই৷

পরে শুনানির মাঝপথে নিজেই সরে দাঁড়ান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করা মহিলা৷ তদন্তের গতিপ্রকৃতি দেখে খুশি নন তিনি বলে জানান৷ তাঁর মত ছিল এই বিচার প্রক্রিয়ায় ন্যায় মেলার সম্ভাবনা কম৷

সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতিও দেন অভিযোগকারিনী৷ তাঁর আশঙ্কা, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগের সঠিক বিচার পাবেন না৷ তিনি জানান, ‘‘আমার মনে হয় আমি বিচারকদের এই বেঞ্চের কাছে সঠিক বিচার পাবো না। তাই আমি আর এই বিচারকদের সামনে শুনানিতে হাজির হবো না। আমি এই শুনানি থেকে সরে দাঁড়ালাম৷’’

বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত হয় তিন সদস্যের বেঞ্চ৷ প্রথমে এই বেঞ্চের মধ্যে বিচারপতি এনভি রামানা ছিলেন। অভিযোগকারিনী দাবি করেন, বিতারপতি রামানা প্রধান বিচারপতির পারিবারিক বন্ধু। তারপরই সরে দাঁড়ান তিনি।