স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি : তাঁরা তোলা আদায় করেন, এমনকী সময়ে অসময়ে খারাপ ব্যবহারও করেন পথ চলতি মানুষ থেকে গাড়ি চালকদের সঙ্গে৷ এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের৷ তবে ব্যতিক্রমও যে রয়েছে, তার নজির গড়লেন চার সিভিক ভলেন্টিয়ার৷ সততার উদাহরণ রাখলেন তাঁরা৷

জলপাইগুড়ি কোতয়ালি থানায় চার সিভিক ভলেন্টিয়ার সততার নজির গড়লেন৷ বস্তা ভর্তি খুচরো পয়সা পেয়ে থানায় জমা দিলেন তাঁরা৷ তাঁদের সাথে ছিলেন স্থানীয় এক যুবকও৷

বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি জাতীয় সড়ক দিয়ে কোচবিহারে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠির যাওয়ার কথা ছিল৷ সেই কারণে শহর লাগোয়া রানিনগর এলাকায় চাউরা পাড়া মোড়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন চার সিভিক ভলেন্টিয়ার,অজয় দাস, আসাদ আলম, পঙ্কজ দাস, ধনঞ্জয় রায়। একসময় রাস্তায় উপরে একটি সাদা বস্তার দিকে নজর পড়ে তাদের৷

এলাকায় এক যুবক হীরক সরকারও সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনিই ওই বস্তাটি তুলে ধরেন৷ সিভিক ভলেন্টিয়ার কর্মীদের সামনে ওই যুবক বস্তা তুলে বুঝতে পারেন, তাতে ভারি কিছু একটা রয়েছে। এরপর সিভিক ভলেন্টিয়াররা ওই বস্তার একটি অংশ ছিঁড়ে ফেলেন৷

দেখা যায় বস্তার ভিতরে রয়েছে প্রচুর খুচরো পয়সা৷ প্রথমে এই বস্তা দেখে বেশ হতবার হয়ে যান তাঁরা৷ কীভাবে বস্তাটি রাস্তার ওপরে এল, তা বুঝে উঠতে পারছিলেন না তাঁরা৷ এরপর সেই বস্তাটিকে উদ্ধার করে সিভিক ভলেন্টিয়ার ও স্থানীয় বাসিন্দা হীরক সরকার থানায় আসেন। কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকের কাছে গোটা ঘটনার বিররণ জানিয়ে বস্তা ভর্তি টাকা তুলে দেন তারা।

পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, এক টাকা দুটাকা করে দুশো টাকা করে আলাদা করা ছিল বস্তার মধ্যে। বেশির ভাগই দু টাকা আর এক টাকা কয়েন রয়েছে। বস্তা ছিড়ে কিছু টাকা পরেও গেছে। প্রায় ১৫ হাজার টাকা বস্তায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷

বস্তা উদ্ধারকারী হীরক সরকার জানান, “আমার বাড়ি ওই এলাকায়৷ আমি যখন বস্তাটা দেখি, সেই সময় সিভিক ভলেন্টিয়াররা উপস্থিত ছিলেন৷ আমরা সকলে বস্তা ভর্তি খুচরো পয়সাগুলি উদ্ধার করে থানায় জমা দিয়েছি।”

কোতয়ালি থানায় আই সি বিশ্বাশ্রয় সরকার বলেন, “আমাদের সিভিক পুলিশ খুবই ভাল কাজ করেছে। সাথে এলাকায় এক যুবকও ছিল। পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে বিষয়টি। সততার পরিচয় এঁরা দিয়েছে।”