কলকাতা: কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে গোটা দেশকে থমকে দিতে তৈরি হচ্ছে শ্রমজীবীরা ৷ মোদী সরকারের জনবিরোধী নীতি, গণতন্ত্র হত্যা এবং শ্রম আইন সংশোধনের বিরোধিতায় গোটা দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা কৃষক-খেতমজুরের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে আগামী ৫ই সেপ্টেম্বর রাজধানী দিল্লি স্তব্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সিটু সাধারণ সম্পাদক তপন সেন জানিয়েছেন, গোটা দেশে মোদী সরকারের কর্পোরেটপন্থী নীতিতে আক্রান্ত শ্রমিক কর্মচারীদের সঙ্গেই দেশের কৃষকসমাজ, গরিব খেতমজুররাও রয়েছেন৷ তাই দাবি আদায়ের লড়াইয়ে এবার কৃষক, খেতমজুর সংগঠনগুলির একজোট হয়ে পথে নামছে।

তবে ৫ই সেপ্টেম্বরের দিল্লির বুকে শ্রমিক-কৃষক সমাবেশ করার আগেই ৯ই আগস্ট ভারত ছাড়ো আন্দোলনের দিবসে গোটা দেশের নানা প্রান্তে আক্রান্ত শ্রমিক কর্মচারীরা ও কৃষক সমাজ একযোগে আইন অমান্য ও জেল ভরো’র কর্মসূচিতে সামিল হচ্ছে। এই দুটি আন্দোলন কর্মসূচির জন্য কৃষকসভার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তা সংগঠিত করার জন্য সিটু নেমে পড়েছে।

আগামী ৫ই সেপ্টেম্বর দিল্লিতে এরাজ্য থেকে দশ হাজার শ্রমিক ওই কর্মসূচিতে সামিল হবেন। শুধু তাই নয়, তার আগে এ রাজ্যে গোটা আগস্ট মাস জুড়ে চা-শ্রমিকদের জাঠা, দুর্গাপুর, রানিগঞ্জ, আসানসোলের কয়লা খনি ও ইস্পাত শিল্পের শ্রমিক কর্মচারীরা মোটর সাইকেল জাঠা সংগঠিত করে কলকাতায় এসে পৌঁছাবেন।

দাবি উঠেছে, একদিকে কৃষকের ফসলের লাভজনক দর নিশ্চিত করার নইলে দেশে কৃষক আত্মহত্যার মিছিল থামছে না। অন্যদিকে দেশের সমস্ত শ্রমজীবীর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে- ন্যূনতম মজুরি ১৮হাজার টাকা, ন্যূনতম পেনশন তিন হাজার টাকা। তাছাড়া দাবি উঠেছে সম কাজে সম বেতন আদায়ের কথা।

এদিকে মোদী সরকারের আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে এই সময়ে হরিয়ানায় পৌর শ্রমিক কর্মচারীরা, সাফাই কর্মীরা লাগাতার ১৬দিন ধর্মঘট করেছেন। ১৫হাজার পৌরকর্মী, সাফাই কর্মীর এই লড়াইয়ে সাফল্যও মিলছে। আবার গ্রামীণ ডাক কর্মীদের একটানা আন্দোলন চলার পর পিছু হঠেছে মোদী সরকার, বাধ্য হয়েছে বেতন বাড়াতে। দেশের কয়লা খনি বাণিজ্যিকীকরণের বিরোধিতায় ধর্মঘটের প্রস্তুতি নিচ্ছে কয়লা শ্রমিকরা। অন্যান্য ক্ষেত্রেও শ্রমিক অসন্তোষ বাড়ছে৷