নয়াদিল্লি: সোমবার মধ্যরাতে লোকসভায় পাশ হয়েছে নাগরিকত্ব বিল। ঠিক তারপরেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের ‘ভোটগুরু’ প্রশান্ত কিশোর। তাতে খুশি নয় নীতিশ কুমারের ‘সংযুক্ত জনতা দল’। তাই প্রশান্ত কিশোর সহ অন্য আরও একজনকে নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে ভাবছে জেডিউ।

লোকসভা এবং রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলকে সমর্থন করেছে নীতিশ কুমারের সংযুক্ত জনতা দল ৷ বিলের পক্ষে সওয়াল করেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার৷ এতেই চটেছেন একদা নীতিশ ঘনিষ্ঠ তথা ভোট বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত কিশোর৷

বিল পেশের পরই ক্ষোভ জানিয়ে পিকে-র টুইট, ‘মানুষে-মানুষে বিভেদ তৈরি করবে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল, ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের সুবিধা দিতেই এই বিল’৷ জেডিইউ বিলটি সমর্থন করেছে জেনে পিকে আরও বলেন ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের পক্ষে রয়েছে জেডিইউ, এটা খুবই দুঃখজনক’৷

নাগরকিত্ব সংশোধনী বিলে শুরুর দিকে আপত্তি ছিল জেডিইউয়ের৷ সময় যত এগিয়েছে বিলের পক্ষে মত জোগাড়ে ততই তত্পরতা বেড়েছে মোদি-শাহদের৷ শেষমেশ শুরুতে আপত্তি থাকলেও শেষে বিল নিয়ে কেন্দ্রের পাশেই দাঁড়ালেন নীতিশ কুমার৷ নীতিশ কুমারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব আরজেডিও৷

প্রশান্তের পাশাপাশি নীতিশের ভোলবদলে কটাক্ষ লালুপ্রসাদের দলেরও৷ নীতিশকে একহাত নিয়ে আরজেডির কটাক্ষ, ‘মোদির ১০০ শতাংশ দাসত্ব স্বীকার করে নিয়েছেন নীতিশ কুমার, ৩৭০ ধারা, তিন তালাক, এনআরসির পর এবার নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল, সব ক্ষেত্রেই কেন্দ্রের দাসত্ব স্বীকার জেডিইউয়ের, ’ টুইট আরজেডির৷

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে শুরুর দিকে অনেক ক্ষেত্রে আপত্তি ছিল নীতিশের দলের৷ তবে বিলটি লোকসভায় পেশের আগের দিন সিদ্ধান্ত বদল জেডিইউয়ের৷ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে সমর্থনের কথা জানায় জেডিইউ৷ সোমবার বিল পেশের পরই তুমুল হট্টগোল শুরু হয় লোকসভায়৷ বিলের বিরোধিতায় সরব হয় কংগ্রেস-সহ একাধিক রাজনৈতিক দল৷

ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে সওয়াল করেন কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী৷ একইসঙ্গে বিলের প্রতিবাদে সোচ্চার হয় তৃণমূলও৷ নাগরকিত্ব সংশোধনী বিলে নীতিগত বিরোধিতার কথা জানান তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় ৷ একাধিক বিরোধী দলের সাংসদরাও বিলের বিরুদ্ধে জোর সওয়াল করেন৷

সংসদে হট্টগোলের মধ্যেই সোমবার নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ দিনভর লোকসভায় বিল নিয়ে চলে জোর বিতর্ক৷ শেষমেশ রাত ১২টায় লোকসভায় পাশ হয় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল, ২০১৯৷ বিলের পক্ষে পড়ে ৩১১টি ভোট, বিলের বিরুদ্ধে মত দেন ৮০ সাংসদ৷ বিল পাশ হওয়ার পরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷