গুয়াহাটি: নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধেই এবার অসম বিধানসভার অধ্যক্ষ মুখ খুললেন৷ এতে প্রবল অস্বস্তিতে রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার৷ বিলটি প্রয়োগ নিয়ে ইতিমধ্যেই জ্বলন্ত অবস্থা তৈরি হয়েছে অসম সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে৷ সরকার ছেড়ে বেরি গিয়েছে অগপ৷

এবার বিধানসভার স্পিকার হিতেন্দ্র নাথ গোস্বামী জানালেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ২০১৬ কে আইন করার আগে সরকার অসমবাসীর ভাবাবেগকে মর্যাদা দিক৷ তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্র সরাকের উচিত অসম অ্যাকর্ডের মর্যাদা বজায় রাখা৷ খোদ স্পিকার এভাবে সরব হওয়ার পরেই অস্বস্তিতে পড়ে গেল বিজেপি সরকার৷ কারণ কেন্দ্রে ও অসমে তারাই ক্ষমতায়৷ ইতিমধ্যেই বিলটির প্রতিবাদে অসম জুড়ে পালিত হয়েছে বনধ, চলছে বিক্ষোভ৷ মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালের কুশপুতুল পুড়িয়েছেন বিক্ষোভকারীরা৷

এক নজরে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (২০১৬)
ভারতের প্রতিবেশী বিভিন্ন মুসলিম জনসংখ্যা বহুল দেশগুলি যেমন বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান থেকে অমুসলিম কেউ সরাসরি ভারতের নাগরিকত্ব পেতে চাইলে এবার আবেদন করতে পারবেন। চাইলেই ওই অমুসলিম ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে। কিন্তু মুসলমান হলে তাঁর ক্ষেত্রে এমনটা করা হবে না। বিলে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী এই সব দেশে ধর্মীয় সন্ত্রাসের কারণে কোনও অমুসলমান ভারতে থাকার আবেদন করতে পারবেন।

বিরোধ কোথায়:
অসম সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলির দাবি, এর ফলে বাংলাদেশ থেকে একটি বড় অংশের হিন্দুরা সরাসরি ভারতে আশ্রয় নেবেন। তাতে স্থানীয় জাতিগোষ্ঠী প্রবল অসুবিধার মধ্যে পড়বে। এতে বাড়বে জাতিগত সংঘাত।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (২০১৬) কার্যকরী হলে উত্তর পূর্ব ভারত জুড়ে তীব্র অচলাবস্থা তৈরি হবে, এমনই হুঁশিয়ারি বিভিন্ন দলের। ফলে সরকারের অবস্থান নিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ। এরই মাঝে বুধবার বিলটির প্রতিবাদে অসমে শুরু হল অভিনব বিক্ষোভ। ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পঠন পাঠন বর্জন করে পড়ুয়ারা বেরিয়ে আসতে শুরু করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপি নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল প্রয়োগ করতে চেয়ে উত্তর পূর্ব ভারতের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার কাজ করছে।

গুয়াহাটির বিক্ষোভের পাশাপাশি নয়াদিল্লিতে অভিনব কায়দায় সংসদ ভবন ঘেরাওয়ের ডাক দিল অসমীয়া পড়ুয়ারা। তাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে উত্তর পূর্বের অন্যান্য রাজ্যের শিক্ষার্থীরাও। ফলে ব্রহ্মপুত্রের তীর থেকে যমুনা তীরে ছড়াচ্ছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরোধিতার ঢেউ।

বিক্ষুব্ধ অসম:
আসাম ট্রিবিউন, সেন্টিনেল, শিলং টাইমস সহ গুয়াহাটির একাধিক সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে- বিলের প্রতিবাদে নাগাল্যান্ডেও ক্ষোভ ছড়াতে শুরু করল। সেখানকার নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটি তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে। আগেই প্রতিবাদ জানিয়ে অসমের সরকার থেকে সরে গিয়েছে অগপ।

হুঁশিয়ারি মেঘালয়ের:
পাশাপাশি মেঘালয়তে সরাসরি বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা এনপিপি দলের প্রধান কনরাড সাংমা। এখানে সরকার পতনের সম্ভাবনা বড় আকার নিয়েছে।

রক্তাক্ত ত্রিপুরা:
আর বিলের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বনধ ও বিক্ষোভ পালন করার সময়ে পশ্চিম ত্রিপুরার জিরানিয়াতে উপজাতি সংগঠনের উপর গুলি চালানোর ঘটনায় আরও জটিল হয় পরিস্থিতি। জখমদের চিকিৎসা চলছে।

উত্তপ্ত উত্তর পূর্বাঞ্চল:

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটির প্রতিবাদে মঙ্গলবার দিনভর প্রবল বিক্ষোভের মধ্যে দিয়েই ১১ ঘণ্টার বনধ পালিত হয় অসম, অরুণাচলপ্রদেশ, মিজোরাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরায়। সেই সঙ্গে ছিল সিটু সহ বাম ট্রেড ইউনিয়ন ও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার ভারত বনধের প্রথম দিন। দুই বনধের মিলিত ধাক্কায় উত্তর পূর্ব ভারত ছিল প্রায় অচল। বুধবারও বাম ট্রেড ইউনিয়নের বনধ হয়েছে। আর নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বিরোধী বিক্ষোভ মিশেছে এই বনধে। গুয়াহাটিতে বনধের বড় প্রভাব দেখা গেল। আগরতলার জনজীবন স্তব্ধ। শিলং, কোহিমা, ইটানগর, ইম্ফলেও বনধ ও বিক্ষোভের রেশ ছড়াচ্ছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ