লখনৌ: করোনা আতঙ্কে কাঁপছে গোটা দেশ। আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশ লক ডাউন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অত্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বেরনো সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। লকডাউনের পরে এটাই প্রথম শুক্রবার। মুসলিম ধর্মালম্বীরা এদিনই নমাজ পড়েন। করোনার জেরে এবার তাঁদের প্রতি অনুরোধ জানালেন, উত্তরপ্রদেশের এক জেলা শাসক। তিনি জনসাধারণকে অনুরোধ জানিয়েছেন, শুক্রবার যেন বাড়ি থেকে লোকজন নমাজ পড়েন।

রাম্পুর জেলার জেলাশাসক কুমার সিং এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে স্বাক্ষাতকারে জানিয়েছেন, “দেশজুড়ে লকডাউনের পরিস্থিতিতে উলেমাদের ও আলেমদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন একটি বৈঠক করেছে। তারা আশ্বাস দিয়েছেন মানুষ বাড়ি থেকেই নমাজ পড়বেন। কেবলমাত্র ইমাম ও তাঁর পাঁচ জন কর্মী মসজিদে মসজিদে নামাজ পড়বেন। “

মোরাদাবাদের জেলাশাসক আর কে সিং জানিয়েছেন, “আমাদের অনুরোধে, উলামায়ে কেরাম এবং আলেমরা করোনভাইরাস মহামারী রোধের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছেন। তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে লোকেরা লকডাউনকে সহযোগিতা করবেন এবং মসজিদে নামাজ পড়তে বের হবে না। “

অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডও তাঁদের টুইটার হ্যান্ডেলে লোকজনকে বাড়িতে থেকেই জুম্মার নমাজ পড়তে অনুরোধ করেছেন।

অন্যদিকে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সচেতন করতে বৃহস্পতিবার রাস্তায় নামেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলার গারুলিয়া পুরসভা এলাকার মোট ৬ টি মসজিদের ইমামরা। তাদেরও বক্তব্য ছিল, শুক্রবার তথা জুম্মাবারে মুসলিম ভাইয়েরা কোনও অবস্থাতেই যেন নমাজ পাঠের জন্য বাড়ির বাইরে না বেরোয়।

তাঁরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সচেতন করে বলেন, “করোনা ভাইরাসের সংক্রমন থেকে বাঁচতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ সকলকে মেনে চলতে হবে। লকডাউন পরিস্থিতিতে ঘর থেকে বাইরে বেরোনো চলবে না। শুক্রবারের নামাজ পাঠ ঘরেই পড়তে হবে প্রত্যেককে। যতদিন না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, ততদিন সকলকে সরকারি নির্দেশ মেনে গৃহবন্দী থাকতে হবে।