স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: বিধানসভা নির্বাচনে ডিউটি করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বর্ধমানের বাসিন্দা সিআইএসএফের হেড কনষ্টেবল দীনাঙ্কর মুখোপাধ্যায়। মাওবাদী অধ্যুষিত ছত্তিশগড়ে দান্তেওয়াড়ায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে৷

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ সেনা জওয়ানদের মেসের বাজার সেরে বাসে বাড়ি ফেরছিলেন দীনাঙ্কর মুখোপাধ্যায় (৫৩)৷ রাস্তাতেই মাওবাদীদের পাতা আইইডি বিস্ফোরণে প্রাণ হারান তিনি৷ এই ঘটনায় আরও ৩জন-ওই বাসের চালক, কনডাকটর এবং খালাসির মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্য দুই জওয়ানও।

দীনাঙ্কর বাবুর মৃত্যুর খবর বৃহস্পতিবার দুপুরে এসে পৌঁছয় বর্ধমানের ৩নং ইছলাবাদ ঘোষপাড়ার মুখোপাধ্যায় বাড়িতে। গোটা পরিবার সহ এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া৷ মৃত জওয়ানের স্ত্রী মিতা মুখোপাধ্যায় এবং এক ছেলে একাদশ শ্রেণীর ছাত্র দেবজিত মুখোপাধ্যায় শোকে পাথর৷

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দীনাঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের কর্মজীবনের শুরু ভারতীয় সেনার বিমান বাহিনীতে যোগ দিয়ে৷ ২০১১ সালে তিনি বিমান বাহিনী থেকে অবসর নেন। এরপর যোগ দেন ফরাক্কায়। সেখান থেকে আন্দামানে ৩ বছর কাটিয়ে কলকাতার গার্ডেনরিচে সিআইএসএফের হেড কনষ্টেবেল হিসাবে যোগ দেন। কয়েকদিন আগেই ভোটের ডিউটি করতে তাঁকে পাঠানো হয় ছত্রিশগড়ের দান্তেওয়াড়ায়। সেখানে জওয়ানদের একটি মেসের দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর।

মৃতের স্ত্রী মিতা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ দীনাঙ্করবাবু বাড়িতে ফোন করেছিলেন। জানিয়েছিলেন মেসের বাজার করতে যাচ্ছেন তিনি। মহালয়ার সময় তিনি ৩ দিনের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন।

যৌথ পরিবার মুখোপাধ্যায় পরিবারের। দীনাঙ্করবাবুই বড় ছেলে। আগামী ১২ ও ২০ নভেম্বর ছত্রিশগড়ে ভোটের জন্য তাঁকে পাঠানো হয়েছিল সেখানে। তিনি ছিলেন দান্তেওয়াড়ার বাছেলি নামে এক পাহাড়ি এলাকায়। সেখানেই বিধানসভা নির্বাচনের জন্য সিআইএসএফের একটি ইউনিটকে মোতায়েন করা হয়েছিল।

ওই ইউনিটের তথা জওয়ানদের মেসের দায়িত্ব ছিল দীনাঙ্করবাবুর ওপর। কিন্তু নির্বাচনের কাজ সেরে বাড়ি ফেরা হল না তাঁর৷ শুক্রবার বিকেলে তাঁর মরদেহ কফিন বন্দী হয়ে ফিরবে বর্ধমানের বাড়িতে৷ জানা গিয়েছে, এনিয়ে গত এক মাসে ৩বার মাওবাদী হামলার ঘটনা ঘটল ছত্রিশগড়ে।