স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ভিনরাজ্যে ডাক্তারিতে ভর্তির নামে প্রতারণা চক্রের পান্ডাকে দিল্লির তিহার জেল থেকে কলকাতায় আনতে চলেছে সিআইডি৷ চলতি মাসেই মায়াঙ্ক কুমার সিংহ ওরফে রাজীব সিংহকে তিহার জেল থেকে কলকাতায় ভবানিভবনে নিয়ে আসবে সিআইডি৷ সেখানে তাকে জেরা করে এই প্রতারণা চক্রের কারবারের ব্যাপারে জানবে গোয়েন্দারা৷

মায়াঙ্ককে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই আদালতে আবেদন জানিয়েছে সিআইডি৷ আদালত সেই আবেদন মঞ্জুরও করেছে৷ সেই সংক্রান্ত নথি তিহার জেলে পৌঁছে গিয়েছে৷ সিআইডি আশা করছে, খুব শীঘ্রই আইনি প্রক্রিয়ার শেষে মায়াঙ্ককে কলকাতায় নিয়ে আসা হবে৷ তারপর তাকে ম্যারাথন জেরা করা হবে৷

সিআইডি সূত্রে খবর, বেঙ্গালুরুর এম ভি জে মেডিক্যাল কলেজ এবং মুম্বইয়ের এস জি এম মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির নামে কয়েক লক্ষ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়৷ অভিযোগকারী জানিয়েছিলেন, প্রথমে ৫৭ লক্ষ এবং পরে আরও ১১ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন ডাক্তারিতে ভর্তির জন্য৷ কিন্তু সেই টাকা দেওয়ার পরেও তিনি ভর্তির সুযোগ পাননি৷ তখন শিলিগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়৷ পরে ঘটনার তদন্তভার হাতে নেয় সিআইডি৷ সেই অভিযোগে মাস দু’য়েক আগে গ্রেফতার করা হয় বিষ্ণুপ্রসাদ চৌবে নামে এক অভিযুক্তকে৷

বিষ্ণুপ্রসাদকে জেরা করেই সিআইডি মায়াঙ্ক সিংহের নাম জানতে পারে৷ তার সম্পর্কে খোঁজ করে জানা যায়, দিল্লিতে একই অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে৷ আপাতত তিহার জেলে বন্দী মায়াঙ্ক৷ সিআইডি’র এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘‘মায়াঙ্ক গ্রেফতারের পরেও ডাক্তারিতে ভর্তি করানোর এই চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে৷ আমরা মনে করছি জেল থেকে সেই চক্রটি চালাচ্ছে৷ সেই বিষয়ে জানার জন্য ধৃতকে আমরা জেরা করতে চাই৷’’

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মায়াঙ্ক ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে কলেজে ভর্তি হলেও সেই পড়াশোনা শেষ না না করেই বেসরকারি কলেজে ডাক্তারিতে ভর্তি হয়৷ সেই সময়ই সে জানতে পারে বেসরকারি কলেজে কীভাবে ডাক্তারির সিট বিক্রি হয়৷ প্রথমদিকে নিজেদের বন্ধুবান্ধবদের ভর্তি দিয়ে হাত পাকায়৷ পরে ব্যবসা খুলে বসে৷ দিল্লি, মুম্বই ও বেঙ্গালুরুতে অফিস খুলে ব্যবসা সাজিয়েছিল৷ প্রথমদিকে সিট পিছু ২০-৩০ লক্ষ টাকা নিলেও বর্তমানে কোটি টাকার নিচে সিট বিক্রি হয় না৷ মায়াঙ্কের ব্যাপারে প্রাথমিক খোঁজখবর নিয়ে সিআইডি জানতে পেরেছে, সে নিজেকে একজন সাংসদের আত্মীয় বলে প্রভাবশালী প্রমাণ করার চেষ্টা করে৷ যদিও সে ব্যাপারে এখনও কোনও তথ্য পায়নি পুলিশ৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.