স্টাফ রিপোর্টার,কলকাতা: নিমতায় নিহত তৃণমূল নেতার বাড়িতে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে এসে তিঁনি জানান, এই ঘটনার তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হল৷ খুনীদের রেয়াত নয়৷ ইতিমধ্যেই পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে৷ ধৃতদের মধ্যে একজন বিজেপি কর্মী বলে পুলিশের দাবি৷ বৃহস্পতিবার ধৃতদের আদালতে তোলা হলে ৭দিনের পুলিশি হেফাজত হয়েছে৷

গত মঙ্গলবার ভর সন্ধ্যায় দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হতে হয় তৃণমূল নেতা নির্মল কুন্ডুকে৷ বাইকে চড়ে এসে দুষ্কৃতীরা তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়৷ এই অবস্থায় নিমতায় নিহত তৃণমূল নেতা নির্মল কুণ্ডুর বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা নাগাদ তিঁনি পৌঁছান৷ তার সঙ্গে সেখানে ছিলেন বেশ কয়েকজন মন্ত্রী৷ শোকাহত পরিবারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী কথা বলেন৷ দল তাদের পাশে আছে বলে আশ্বাস দেন৷

বাড়ি থেকে বেরিয়ে মমতা জানান, নির্মলের স্ত্রী ও মেয়েদের সঙ্গে কথা হয়েছে৷ এছাড়া তার আত্মীয়দের সঙ্গেও কথা বলেছি৷ তাদের দাবি, অপরাধীদের উপযুক্ত বিচার হউক৷ আমরাও চাই শাস্তি হউক৷ টাকা দিয়ে খুন করিয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ প্লানারদের খুঁজে বের করতে হবে৷ তিঁনি আরও জানান,ভবানীভবন থেকে সিআইডি টিম নিয়ে এসেছি৷ তাছাড়া রয়েছেন জেলা পুলিশ সুপারও৷ খুনীদের রেয়াত নয়৷

ইতিমধ্যেই তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনায় বিজেপি কর্মীসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম সুমন কুণ্ডু ও উ্ত্তম মণ্ডল৷ ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ সূত্রে খবর,, ধৃতরা যে খুনের সঙ্গে জড়িত তা স্বীকার করে নিয়েছে। এমনকি এই ঘটনার পিছনে পোক্ত কোনও হাত কাজ করেছে তাও কার্যত দুই অভিযুক্ত স্বীকার করে নিয়েছে৷ সিসিটিভির ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করনের কাজও করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি৷

গত মঙ্গলবার ভরসন্ধ্যায় তৃণমূল নেতাকে গুলি করে খুন করা হয়৷ প্রত্যক্ষদর্শীদের কথা মতো, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিমতার ঠাকুরতলায় নিজের পাড়ার মুখে দাঁড়িয়েছিলেন দমদম উত্তর পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি নির্মল কুণ্ডু৷ সেই সময়ই খুব জোড়ে বাইক চালিয়ে দুষ্কৃতীরা এলাকা থেকে পার হচ্ছিল৷ হঠাই চলন্ত বাইক থেকে গুলি মারা হয় নির্মল কুণ্ডুকে নিশানা করে৷ খুব কাছ থেকেই তাঁকে টার্গেট করে চলে গুলি। তাঁর বুকে গুলি লাগে৷

গুলিবিদ্ধ নির্মল কুণ্ডুকে সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় কামারহাটির বেসরকারি হাসপাতালে৷ সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ এই ঘটনার পর থেকেই চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে নিমতা এলাকায়৷ এলাকায় মোতায়েন রয়েছে প্রচুর পুলিশ৷