কলকাতা: হেমতাবাদের বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের রহস্যমৃত্যুর ঘটনার তদন্তে নেমে নিলয় সিং নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল সিআইডি। দেবেন্দ্রনাথ রায়ের পকেটে থাকা সুইসাইড নোটে ধৃত নিলয় সিং নামে ওই ব্যক্তির নাম লেখা ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবারই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল ওই ব্যক্তিকে। শেষমেশ আটকের বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হেমতাবাদের বিধায়কের পকেট থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়। সেই নোটে ধৃত নিলয় সিংয়ের নাম ছিল। তদন্ত নেমে ওই ব্যক্তিকে প্রথমে আটক করে সিআইডি। মালদহের ইংরেজবাজার থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে। জিজ্ঞাসাবাদে অসঙ্গতি থাকায় তাকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

এছাড়াও গোপাল নামে আরও এক ব্যক্তির খোঁজে সিআইডির তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপালেরও নাম রয়েছে সুইসাইড নোটে। এদিকে, পোষ্টমর্টেম রিপোর্টকে মাথায় রেখে দেবেন্দ্রনাথ রায়ের মৃত্যুকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে সুইসাইড নোটটিও নজরে রেখেছেন গোয়েন্দারা। তার ভিত্তিতেই এগোচ্ছে তদন্ত প্রক্রিয়া।

অন্যদিকে, সুইসাইড নোটের লেখা আসলে দেবেন্দ্রনাথ রায়ের কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। পুলিশের দাবি সুইসাইড নোটে দুই ব্যক্তির নাম ও ফোন নম্বর লিখে গিয়েছেন দেবেন্দ্রনাথবাবু। সেই ফোন নম্বরের সূত্র ধরে মঙ্গলবার নিলয় সিং নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করে সিআইডি।

পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরই পাশাপাশি গোপাল নামে স্থানীয় আরও এক ব্যক্তির নাম রয়েছে সুইসাইড নোটে। ওই ব্যক্তির সঙ্গে মিলে চালকল চালাতেন দেবেন্দ্রনাথ রায়। সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না বলেই জানতে পেরেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। রায়গঞ্জে তাঁর একটি বাড়ি বন্ধক রেখে গোপালকে তিনি মোটা টাকা ধার দিয়েছিলেন বলেও ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন।

পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে, গোপালের সূত্রেই ধৃত নিলয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় হেমতাবাদে বিধায়কের। দেবেন্দ্রনাথ রায়ের বাড়ির একাংশে বেশ কয়েকমাস ভাড়াও ছিলেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু সম্প্রতি লকডাউনের জেরে ব্যবসায় মন্দা চলছিল। ফলে সম্ভবত কিস্তির টাকা দিতে পারছিলেন না দেবেন্দ্রনাথ রায়। সম্ভবত সম্পত্তি বেহাত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অবসাদে ভুগছিলেন দেবেনবাবু। সেই কারণেই তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন বলে প্রাথমিক অনুমান।

গত সোমবার সকালে বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে একটি দোকানের বারান্দা থেকে উদ্ধার হয়েছে হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের মৃতদেহ। খুনের পর মৃতদেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন দেবেন্দ্রনাথ রায়।

জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে তাঁকে বাড়িতে ফোন করে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর থেকে আর বাড়ি ফেরেননি ওই বিধায়ক। সোমবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি বন্ধ দোকানের বারান্দা থেকে উদ্ধার হয় বিধায়কের ঝুলন্ত দেহ।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ