ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: আধারের তথ্য চুরি হচ্ছে – এমনই বিস্ফোরক রিপোর্ট দিচ্ছে উইকিলিক্স৷ আর তা চুরি করছে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ। এরফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ছ’টি রাজ্য। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে , সাধারণ মানুষের ব্যক্তিপরিসরে হস্তক্ষেপ করা যাবে না। সেই সময়েই আবার সিআইএ-র ‘এক্সপ্রেসলেন’ প্রকল্পের গোপন কিছু নথিপত্র ফাঁস করে দিল উইকিলিক্স। এমন রিপোর্ট জানাজানি হওয়ায় গোটা বিষয়টা আলাদা মাত্রা পাচ্ছে ৷ তবে সরকারি আধিকারিকরা দাবি করেছে আদৌ এ ভাবে কোনও তথ্য চুরি সম্ভব নয়৷ যেহেতু ভেন্ডর সংস্থা এই সব তথ্য পেয়েছে তা ‘এনক্রিপ্টটেড ফ্রম’-এ ফলে সেটা আধার সার্ভারে চলে গিয়েছে৷ তাদের মতে, ওই রিপোর্ট ভিত্তিহীন এবং আধার তথ্য সুরিক্ষতই রয়েছে৷

আরও পড়ুন: ৮১ লক্ষ আধার কার্ড বাতিল! আপনারটা ঠিক আছে তো?

সিআইএ-র একটি শাখা সংস্থা হল ‘অফিস অব টেকনিক্যাল সার্ভিস’ (ওটিএস), এবং এর বিশেষ বায়োমেট্রিক সংগ্রহ ব্যবস্থা রয়েছে। গোটা পৃথিবীর বিভিন্ন জনসংযোগকারী সংস্থাগুলোকে এই সিস্টেমটি দিয়ে রেখেছে তারা। চুক্তি ভিত্তিক এই ব্যবস্থায় বিনিময়ে সংস্থাগুলোকে যাবতীয় তথ্য তুলে দিতে হবে ওটিএস-এর হাতে। তবে স্বাভাবিক ভাবেই সিআইএ-র এই ‘বিনামূল্যে পরিষেবা’ ঠিক মতো কাজ দেয়নি। সেক্ষেত্রে তারা আরও আগ্রাসী হয়েছিল। আর তাই সিআইএ সরাসরি যোগাযোগ করে বিভিন্ন জনসংযোগকারী সংস্থার সঙ্গে। ওটিএস-এর এজেন্টরা ওই সব জনসংযোগকারী অফিসগুলিতে হানা দেয়। পাশাপাশি প্রস্তাব দেন, তাদের কাছে রয়েছে একটি বিশেষ সিস্টেম, এক্সপ্রেসলেন, যা কি না বায়োমেট্রিক সফ্‌টওয়্যার আপগ্রেড করতে পারদর্শী। এরফলে সংস্থার আধিকারিকদের সামনেই সফ্‌টওয়্যারটি কম্পিউটারে ‘ইনস্টল’ করে ‘রান’ করানো হয়। যেহেতু গোটা বিষয়টিই ঘটে তাঁদের চোখের সামনে ফলে কেউ সন্দেহ করে না।

কম্পিউটারের পর্দায় তাঁরা দেখেন বায়োমেট্রিক সিস্টেমটি ‘আপগ্রেড’ হচ্ছে, কিন্তু পর্দার আড়ালে চুরি হয়ে যেতে থাকে সব গোপন তথ্য।
আধার প্রকল্পের জন্যও ভারতে পাঠানো হয়েছিল ‘ক্রস ম্যাচ’। ওটিএস-এর মূল হাতিয়ারটি এই ‘ক্রস ম্যাচ’ কাজ করে ওদেশের আইন বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হয়ে বায়োমেট্রিক সফ্‌টওয়্যার নিয়ে৷ ২০১১ সালে ৭ অক্টোবর ‘ক্রস ম্যাচ’ ভারত সরকার থেকে অনুমতি পায় তাদের আঙুলের ছাপ নেওয়ার যন্ত্র (গার্ডিয়ান, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ক্যাপচার ডিভাইস) এবং চোখের তারা মেলানো যন্ত্র (আই স্ক্যান) ব্যবহারের করার। বায়োমেট্রিক সিস্টেমটি সামলানোর জন্য আদৌ কতটা পারদর্শী ‘ক্রস ম্যাচ’, তা পরীক্ষা করে দেখে নিয়েছিল ভারতের ‘দ্য ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া’ (ইউআইডিএআই), গোটা দেশে আধার তৈরির দায়িত্বে রয়েছে যারা।

আরও পড়ুন: এমাসেই শেষ প্যান আধার সংযোগের মেয়াদ

ভারতে ক্রস ম্যাচের অংশিদার হল ‘স্মার্ট আইডেন্টিটি ডিভাইস প্রাইভেট লিমিটেড’ (সংক্ষেপে স্মার্ট আইডি)। ২০০৮ সালে নয়ডার এই সংস্থাটি সঞ্জীব মাথুরের হাত ধরে বাণিজ্যিক ভাবে কাজ শুরু করে। এ দেশে বায়োমেট্রিক ব্যবস্থায় তারাই পথিকৃত। গোটা আধার প্রোগ্রামেও নেতৃত্ব দিয়েছে এরাই। ঝাড়খণ্ড, তামিলনাড়ু, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ— এই ছ’টি রাজ্যে আধার নথিভূক্তিকরণের যাবতীয় দায়িত্ব সামলেছে ‘স্মার্ট আইডি’।

 

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV