স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: স্বাধীনতার সাত দশক পেরিয়ে গিয়েছে। বাঙালীর শারদ দীপাবলি থেকে শুরু করে বড়দিন। কোন উৎসবেই কেউ উন্নয়নের নামে কোন কিছু এলাকার মানুষকে উপহার দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেনি৷ রাস্তা ঘাট পাকা ও পর্যাপ্ত আলোর দাবি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছিলেন বাসিন্দারা। বিগত পুরবোর্ডের কাছেও একাধিকবার লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন তাঁরা।

কিন্তু আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার উন্নয়নের সেই আবেদনে তৎকালীন পুরবোর্ডের প্রতিনিধি থেকে শুরু করে এলাকার বাসিন্দা বিধায়ক তথা বাম আমলের প্রাক্তন মন্ত্রী নারায়ণ বিশ্বাস কেউই সাড়া দেননি বলে অভিযোগ। চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্রর উদ্যোগে তৃণমূল পরিচালিত বর্তমান পুরসভা দেরিতে হলেও গঙ্গারামপুরের আদিবাসী পাড়াগুলির রাস্তাঘাট ও আলোর ব্যবস্থা করেছে। বড়দিনের উৎসবের উপহার হিসেবে কংক্রিটের রাস্তা হাইমাস্ক ও এলইডি লাইটে ভরিয়ে সোমবার তা উদ্বোধনও করে দিয়েছে।

প্রাচীন শহর গঙ্গারামপুরে বানগড়ের ধ্বংসাবশেষের পরেই নিদর্শন হিসেবে নাম শোনা যায় স্থানীয় রাজীবপুর এলাকার গির্জার। রাজীবপুর মিশন ও গির্জাকে কেন্দ্র করে আশপাশে রয়েছে দশ থেকে পনেরটি আদিবাসী পাড়া। মেইন রোড বাদে ১৫ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত এই পাড়াগুলির ভিতরের যাতায়াতের রাস্তার অবস্থা কয়েক দশক থেকেই বেহাল।

বিদ্যুতের তার ও খুঁটি থাকলেও এতদিন ছিল না পথবাতি। এতদিন অনুন্নয়নকে শিরোধার্য করেই বড়দিনের উৎসবকে কোনওভাবে পালন করে এসেছেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী পাড়াগুলির আদিবাসীরা। এই প্রথম উন্নয়নের পরশে তাঁরা বড়দিন পালন করতে চলেছেন।

বর্তমান পুরসভার উদ্যোগে ওয়ার্ড দুইটির রাজীবপুর মিশনপাড়া দক্ষিণপাড়া সহ গির্জার আশপাশের পাড়াগুলির রাস্তা পাকা করে দেওয়া ও উন্নত পথবাতি বসানো হয়েছে। এই প্রথম বড়দিনের আগের সন্ধ্যায় দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় খুশি এলাকার বাসিন্দারা। গির্জার ফাদার বাবলু মণ্ডল জানিয়েছেন, বড়দিনের আগে পুরসভার এই কাজ খুবই প্রশংসনীয়।

গঙ্গারামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্র জানিয়েছেন, ওই এলাকায় মোট ১৭০টি এলইডি লাইট ও বেশ কয়েকটি হাইমাস্ক বসানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ছোট ছোট রাস্তাগুলি সবই কংক্রিট করে দেওয়া হয়েছে। আলো ও রাস্তা উন্নয়নে চল্লিশ লক্ষেরও বেশি টাকা ব্যয় হয়েছে। বড়দিন উপলক্ষে পুরসভার তরফে এলাকার মানুষকে তা উপহার দিতে পেরে তিনি গর্বিত।