স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রবিবারের সন্ধ্যা থেকেই কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্ব তুঙ্গে৷ কলকাতা পুশির কমিশনারের বাড়িতে সিবিআই হানা, পুলিশের সিবিআই অফিস থেকে নিজাম প্যালেস, সিজিও কমপ্লেক্স ঘিরে ফেলা, আধা সেনা মোতায়েন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাদ্যায়ের ধর্না, একের পর এক মোড় পরিবর্তন হয়ে চলেছে৷ সিপি-সিবিআই বিষয় রাজনৈতিক আঙিনায় ঝড় তুলেছে গতকাল থেকেই৷ সোমবারেও সেই ধারা অব্যাহত৷

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক থেকে রাজ্যে গণতন্ত্র বিপন্ন, এমনই যখন তোপ দাগছে বিজেপি শিবির, অন্যদিকে সেখানেই পাল্টা দিতে মমতার ধর্নাকে আরও শক্তিশালী করতে মঞ্চে যোগ দিতে পারেন বিজেপি বিরোধী অন্যান্য দলের একাধিক নেতারা৷

তবে এরই মাঝে চুপ নেই বামশিবিরও৷ রবিবারই বামেদের ব্রিগেডে রাজ্য এবং কেন্দ্র, দুই শাসকদলের প্রতি বার্তা দেয় বাম নেতারা৷ উপস্থিত ছিলেন বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্র, ক্ষিতি গোস্বামী প্রমুখরা৷ মঞ্চে উঠে বক্তব্য না রাখলেও গাড়িতে এসে কিছুক্ষণের জন্য ব্রিগেডে উপস্থিত থাকেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য৷ আর এই ব্রিগেডে রেশ কাটার আগেই কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত চরমে উঠল রবিবাসরীয় সন্ধ্যায়৷

ব্রিগেডের সভায় জনগণের ভিড়কে ভয় পেয়েছে তাই তার থেকে নজর ঘুরিয়ে দিতেই এমন প্রহসন, এভাবেই শাসকদলকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণ করলেন বাম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র৷ এদিকে এদিন ওই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী ডিজিপি সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে যান যা দেশে সূর্য মিশ্র ‘নজিরবিহীন ঘটনা’ অ্যাখ্যা দিয়েছে। যদিও এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘‘একথা সত্য অন্যান্য স্বাধীন সংস্থার মত সিবিআই-র ওপর মোদী সরকারের হস্তক্ষেপ এখন প্রায় পাঁচ বছরের শাসনে প্রমাণিত সত্য। পাঁচ বছর ধরেই এই বিষয়টি প্রহসনে পরিণত হয়েছে।

এমনকি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মত আরও বৃহত্তর চক্রান্ত উদঘাটন করতে আগেই তৎপর হওয়া যেত। লক্ষ লক্ষ চিটফান্ডের আমানতকারির কোটি কোটি টাকা যারা আত্মসাৎ করেছে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে প্রতারিত আমানতকারির টাকা ফেরৎ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়নি।

প্রতারিতদের অনেকেই অবসাদের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের বিষয়টা কেন্দ্র রাজ্য উভয় সরকারের পক্ষ থেকে অনেক আগে থেকে দেখা উচিৎ ছিল যা রাজ্যের তৃণমূল এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বোঝাপড়ার কারণে করেনি। শুরু থেকেই মুখ্যমন্ত্রী চিটফান্ডের বিষয়ে অতি নাটকীয় পথ ধরে মূল অপরাধ থেকে নজর ঘোরাতে চাইছেন। কেন্দ্রীয় সরকারও বিষয়টি জিইয়ে রেখে এই নাটকে ইন্ধন যুগিয়ে চলেছে এবং আমানতকারিদের প্রতারিত করে চলেছে।’’

সোমবার সকালেও ফের একটি ট্যুইট করে তিনি বলেন, ‘রাজ‍্যটাকে পথে বসিয়ে নিজেই পথে বসে পড়ো /এই তামাশা বন্ধ করো/লুটেরাদের জেলে ভ‍রো/লুটের টাকা ফেরত করো।
দিকে দিকে আওয়াজ তোলো- চৌকিদার-পাহারাদার/ হুঁশিয়ার,হুঁশিয়ার।’ একইসঙ্গে রাজ্য-কেন্দ্রের প্রতি তোপ দাগেন তিনি৷