ইউএই: ভালবাসাও বিরক্তির কারণ! স্ত্রীকে সবসময় প্রেমের জোয়ারে ভাসিয়ে দিতেন স্বামী। রান্না করা থেকে ঘর পরিষ্কার, বাজার করা থেকে সংসারের যাবতীয় কাজ কোনও কিছুই স্ত্রীকে করতে দিতেন না স্বামী। এমনকি ঝগড়াও করেন না। প্রথম বিষয়টি ভাল লাগলেও আস্তে আস্তে বিষয়টি বিরক্তিকর হয় ওঠে স্ত্রীর কাছে। দমবন্ধ পরিবেশ। পরিস্থিতি এমন জায়গা পোঁছয়, ঝগড়া করার জন্য স্বামীকে রাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন স্ত্রী। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। বরং স্ত্রীর প্রতি ভালবাসা আরও বেড়ে গিয়েছে। স্বামীর এই আচরণে বিরক্ত হয়েই শেষমেষ বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন নিয়ে আদালতে ছুটলেন স্ত্রী। অভূতপূর্ব এই ঘটনাটি ঘটেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ফুজাইরা এলাকার শরিয়ায়।

স্ত্রীর এই আচরণে অবাক স্বামী। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমি তো কিছু খারাপ করিনি। একজন আদর্শ ও ভদ্র স্বামী হওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। একবার আমার স্ত্রী শরীরের ওজন নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। তাই ডায়েট চার্ট মেনে খাবার খেয়ে ও ব্যায়াম করে শরীরের মেদ ঝড়িয়েছিলাম। আমার মনে হয় বিয়ের প্রথম বছরেই সম্পর্ক গভীরতা ঠিক বোঝা যায় না। আরও কিছুটা সময় দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিটি মানুষই তাঁদের ভুল থেকে শেখে।’

মহিলার আবেদন শুনে হতবাক হয়ে গিয়েছেন বিচারক। আদালতে দাখিল করা আবেদনে ওই মহিলা জানিয়েছেন, একবছর আগে বিয়ে হয়েছিল তাঁদের। বিয়ের পর থেকে তাঁর প্রতি স্বামীর ভালবাসা দেখে আপ্লুত হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু ক্রমশ তা দমবন্ধ পরিস্থিতির সামিল হয়ে ওঠে।
মহিলা জানান, ‘বিয়ের পর থেকে একটা দিনও আমাদের ঝগড়া হয়নি। তাই আমি সবসময় প্রার্থনা করতাম যেন একদিনের জন্য হলেও অশান্তি হয়। ও আমাকে বকাবকি করুক। কিন্তু, কোনওদিনই এমনটা হয়নি। ফলে নিরুত্তাপভাবে কাটছিল আমার জীবন। বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হই।’

উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আরও কিছুদিন ওই দম্পতি একসঙ্গে থাকার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ