নয়াদিল্লি : ‘জীবন খাতার প্রতি পাতায়, যতই লেখ হিসাব নিকাশ, কিছুই রবে না’! দেওয়া নেওয়া ছবিতে শ্যামল মিত্রের বিখ্যাত গান। গায়কের কথায় জীবন খাতার হিসাব নিকেশ কিছুই থাকে না। কিন্তু তিনি বলছেন, আলবাত লেখা হয়। আসলে তিনিই তো মানব জীবনের হিসাবরক্ষক। তাঁরও পূজা পাঠ হয়। তাও আবার ভাইফোঁটার দিনেই।

হিন্দুদের নাকি তেত্রিশ কোটি দেবতা। এর মধ্যে চিত্রগুপ্তও পড়েন তা আর ক’জনেরই বা জানা আছে! ‘যমালয়ে জীবন্ত মানুষ’ ছবিতে স্বর্গের ষাঁড়ের তাড়া খাওয়া দেখে অনেক বাঙালিরই ধারণা যে চিত্রগুপ্ত যমরাজের সভার সভাসদ হতে পারেন। হতে পারে তিনি মানব জীবনের সমস্ত হিসাব নিকেশ করতে পারেন কিন্তু ভগবানের ‘লেভেল’-এ কি তিনি পৌঁছেছেন? না জানলে জেনে নিন। চিত্রগুপ্ত মহাশয়ও হ্যাশ ট্যাগ ভগবানগোত্রীয়। তাঁর পূজা হয় ভাতৃ দ্বিতীয়ার দিনেই। বাংলায় তাঁর পূজার প্রচলন নেই। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বাইরে বহু রাজ্যেই ভাতৃদ্বিতীয়ার দিনে চিত্রগুপ্তের পূজা পাঠের ছবি দেখা যায়। রীতিমত ফুল, বেলপাতা, আমডালসহ পূজা হয় চিত্রগুপ্তের। সাধারণত ব্যবসায়ীরা এই দিন চিত্রগুপ্তের পূজা করে থাকেন। তাঁদের ব্যবসার সমস্ত হিসেব নিকেশ যাতে ঠিকঠাক থাকে সেই প্রার্থনাতেই চিত্রগুপ্তের পুজো করেন তাঁরা।

হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী কার্ত্তিক শুক্লা পক্ষের দ্বিতীয়ার্ধে চিত্রগুপ্তের পূজা হয়। ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দিনটি ভাতৃদ্বিতীয়া। যারা চিত্রগুপ্তের পূজা করেন তাঁরা একটি খাতায় শ্রী লিখে তাতে তাঁর বেশকিছু ব্যবসায়িক হিসেব নিকেশ লিখে রেখে দেন। এরপরে শুরু হয় তাঁর আরাধনা। হিন্দুরা দিনটিকে চিত্রগুপ্ত জয়ন্তী বা দাওয়াত পুজো বলে থাকেন।

প্রতি মুহূর্তে যে কাজই করছে আপনি তা লিপিবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে তাঁর বিশাল খাতায়। তিনি চিত্রগুপ্ত।

পূজায় চিত্রগুপ্তের ছবির পাশাপাশি, গনেশের ছবিও প্রয়োজন। পাশাপাশি লাল কাপড়, হিসেবের খাতা, কাগজ, কলস, লোটা, আলো, কালী , দুধ , ধি, আদা, গঙ্গার জল, হলুদ, পান, ধুপ, চন্দন, ধুনোও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জিনিস চিত্রগুপ্তের পূজায়।

স্বামীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বস্ত্র ব্যবসাকে অন্যমাত্রা দিয়েছেন।'প্রশ্ন অনেকে'-এ মুখোমুখি দশভূজা স্বর্ণালী কাঞ্জিলাল I