মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ড এবার বাংলাতেও!
মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ড এবার বাংলাতেও!

বিশেষ প্রতিবেদন:  ‘‘সাত সকালে চিন্তিত হয়ে পড়লেন বৃদ্ধ রাজীব গুপ্ত। বাজারে যাওয়ার ঠিক মুখে জানতে পারলেন খারাপ খবরটা। আচমকা আসা একটা ফোনে জানা গিয়েছে, ভাড়াটে নলিনীর বাবা হার্ট অ্যাটাকে মারা গিয়েছেন কয়েকঘণ্টা আগে। তাই কিছুক্ষণের মধ্যে বেরিয়ে যাবেন তরুণী।

কিন্তু তিনি, অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়র, কী আর করবেন? সাহায্য বলতে একটা ট্যাক্সি ডেকে দেওয়া ছাড়া আর কোন কাজটাই বা তিনি করতে পারেন? সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই দেখতে পেলেন, তাড়াহুড়ো করে বড় ট্রলি ব্যাগটা নিজেই টেনে নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন ছিপছিপে চেহারার তুখোড় সুন্দরী নলিনী চৌধুরি।

‘ভগবান ভালো কোরো মেয়েটার।’ কপালে হাত ঠেকিয়ে বিড়বিড় করে বললেন বৃদ্ধ। ক’টা হবে তখন। খুব বেশি হলে সকাল সাড়ে দশটা। সকালের কুয়াশা কাটিয়ে সবে মুখ তুলছেন সূর্যদেব। ১৯৯৮-এর ডিসেম্বর মাস। দক্ষিণ কলকাতার যোধপুর পার্ক এলাকা অভিজাত হওয়ায় ততক্ষণে বেশ জমজমাট। একটা বহুতলের সামনে পর পর দাঁড়িয়ে গেল বেশ কয়েকটা পুলিশ ভ্যান।

এত সকালে এখানে পুলিশ কেন?’’—— এরকমই বিভিন্ন অজানা ঘটনা নিয়ে বুকফার্ম থেকে প্রকাশিত হয়েছে মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে প্রথম কোনও বাংলা বই। নাম, ‘অচেনা আন্ডারওয়ার্ল্ড: ডন ও ডারলিং’।

লিখেছেন সাংবাদিক চিত্রদীপ চক্রবর্তী। কে জানত, জীবনের প্রথম প্রেমে ধোঁকা খেতে হয়েছিল খোদ দাউদ ইব্রাহিমকে? বান্ধবীকে সন্তুষ্ট করতে কী করতে হয়েছিল ছোটা রাজনকে? সামাদকে খুন করতে সাহায্য করেছিলেন কোন তরুণী?

কিংবা ফরিদ তানাশার মৃত্যুর নেপথ্যে ছিলেন কে? অন্ধকার জগতের এরকম হাজার প্রশ্নের জবাব রয়েছে বইতে।

ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ৯৩ এর ১২ মার্চের পর কীভাবে বদলে গিয়েছে মুম্বইয়ের অপরাধ জগতের ইতিহাস-ভূগোল। সোজা কথায় বলতে গেলে, মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ডের জানা চরিত্রদের অজানা দিক ফোকাস করা হয়েছে বইয়ে। দশজন ডনের বান্ধবী-স্ত্রীর ভূমিকা এখানে মূল বিষয়।

যাঁদের মধ্যে রয়েছেন, অশ্বিন নায়েক,অরুণ গাউলি, ছোটা শাকিল, টাউগার মেমন-সহ অন্যদের গার্লফ্রেন্ডরা। কুখ্যাত এই ডনেদের উত্থান-পতনের পিছনে নারী চরিত্রদের ভূমিকা কেমন তার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে পাতায় পাতায়। হিন্দি সিনেমার দৌলতে আন্ডারওয়ার্ল্ডের বিভিন্ন চরিত্র আমাদের কাছে এখন পরিচিত।

কিন্তু এই বইটি আলাদা ধরণের। কয়েক বছর ধরে মুম্বইয়ের অন্ধকার জগতের অলিগলিতে ঘুরে ঘুরে গবেষণার কাজ চালিয়েছেন সাংবাদিক চিত্রদীপ।

মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ড এবার বাংলাতেও!
মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ড এবার বাংলাতেও!

কথা বলেছেন পুলিশ কর্তা রাকেশ মারিয়া, লেখক এস হুসেইন জায়েদি এমনকি দাউদের এক সময়ের পড়শী জুনেদের সঙ্গেও। নিয়েছেন অরুণ গাউলির স্ত্রী আশার সাক্ষাৎকার।

তার ভিত্তিতে লেখাগুলি উঠে এসেছে গল্প বলার স্টাইলে। তবে বইটির আকর্ষণীয় জায়গা, ভূমিকা। লিখেছেন, মুম্বই পুলিশের বিতর্কিত এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট দয়া নায়েক।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।