বেজিং: বিশ্বের একাধিক সংবাদমাধ্যমে বারবার উঠে এসেছে চিনের জিনজিয়াংয়ের খবর। চরম অত্যাচারের বর্ণনা পাওয়া গিয়েছে বহু রিপোর্টে।

সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে যে জিনজিয়াংয়ে একের পর এক মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরই প্রেসিডেন্ট জি জিংপিংয়ের দাবি, জিনজিয়াং জুড়ে শুধুই খুশি।

প্রতিনিয়ত জিনজিয়াং থেকে নানা ধরনের অত্যাচারের খবর আসে। কখনও জোর করে শ্রমিকের কাজ করানো হয়। কখনও আরও ভয়ঙ্কর কোনও কাজে বাধ্য করা হয় সেখানকার বাসিন্দাদের। সেই খবর আজ আর গোপন নেই।

অথচ জিনজিয়াং নিয়ে এক কনফারেন্সে জিংপিং দাবি করেন, জিনজিয়াংয়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দ আছে। তাঁরা জানেন তাঁরা সুরক্ষিত। চিনের প্রশাসন সেখানকার বাসিন্দাদের চিন নিয়ে সঠিক তথ্য জানানোর চেষ্টা চালাবে বলেও জানা গিয়েছে।

তিনি আরও বলেন জিনজিয়াংয়ের বাসিন্দাদের শিক্ষিত করা প্রয়োজন। তাঁদের ইতিহাস, জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি।

সম্প্রতি এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, একটা নয়, চিনে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়ছে হাজার হাজার মসজিদ। মাত্র তিন বছরে একাধিক মসজিদ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
চিনের শিনজিয়াং প্রদেশেই শুধুমাত্র কয়েক হাজার মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট (এএসপিআই)-এর একটি রিপোর্টে এমনই দাবি করা হয়েছে।

এই এএসপিআই সরকার প্রতিষ্ঠিত এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা দফতরের অনুমোদন প্রাপ্ত থিঙ্কট্যাঙ্ক।

জানা গিয়েছে, গত তিন বছরেই অধিকাংশ মসজিদ ভাঙা হয়েছে। শহুরে এলাকা উরুমকি এবং কাশগড়েই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মসজিদ ভাঙার ঘটনা ঘটেছে।

এমনকি যেসব মসজিদ এখনও রয়েছে সেগুলির অনেকেরই চূড়া এবং গম্বুজ ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

এএসপিআইয়ের এই রিপোর্ট সত্য বলে প্রমাণিত হলে, ১৯৬০ সালে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের জেরে চিনে যে জাতীয়বাদী ভাবাবেগের উত্থান ঘটে, তার পর থেকে এই প্রথম সেখানে মসজিদের সংখ্যা এত নীচে গিয়ে ঠেকেছে। একই সঙ্গে এও উল্লেখ করা হয়েছে যে, জিনজিয়াং প্রদেশে কোনও গির্জা এবং বুদ্ধ মন্দিরের উপর কোনও আঁচড়ও পড়েনি।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।