কলকাতা: সম্প্রতি বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল বামপন্থীদের জন্য হতাশজনক ৷ বেশির ভাগ সমীক্ষাই তাদের শূণ্য দিয়েছে না হলে মেরে কেটে এক বা দুই আসন৷ কিন্তু চিনের এক প্রভাবশালী পত্রিকার বক্তব্য, আপাতত চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়লেও বাম সমর্থনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে ৷ যা ফের বামেদের ভবিষ্যতে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে বলেই ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে৷

প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এ৷ এটি কোনও কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র নয় ৷ এই পত্রিকাটির মালিক হল বিতর্কিত বহুজাতিক চিনা শিল্পগোষ্ঠী আলিবাবা।

ওই পত্রিকাটির আন্তর্জাতিক সংস্করণে ‘দিস উইক ইন এশিয়া’ বিভাগে একটি রাজনৈতিক প্রবন্ধ বের হয়েছে ৷ প্রতিবেদনটিতে ভারতের দুই কমিউনিস্ট পার্টির অতীত ও বর্তমান নিয়ে বিশ্লেষণের পাশাপাশি জানানো হয়েছে, গত পাঁচ বছরে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে বাঁক নিয়েছে ভারতের বামপন্থা ৷ এর ফলে বিজেপির মতো চরম দক্ষিণপন্থী শক্তিকে মোকাবিলা করতে নতুন শক্তি হিসেবে বামেদের উঠে আসার সম্ভাবনা কথা বলা হয়েছে৷

গত কয়েক বছর ধরে কমিউনিস্টদের আসন কমা নিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হয়েছে নিবন্ধে ৷ সেক্ষেত্রে বাংলার সিপিএমের বামপন্থী নীতি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়ার প্রসঙ্গও উঠেছে ৷ ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে যে সমর্থনের ভিত গড়েছিল তা আলগা হয়ে গেল কেন ? বেসরকারি শিল্পমালিকদের জন্য কৃষিজমি অধিগ্রহণ করতে গেলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলল ৷ বাংলা ত্রিপুরায় এতদিনের বাম শাসনের অবসান ঘটে গেল৷

তবে প্রতিবেদেনে উঠে এসেছে – পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও কেরলের বাইরে আবার ছাত্র ও কৃষক আন্দোলনকে হাতিয়ার করে রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, হিমাচলপ্রদেশ, হরিয়ানা ও কর্নাটকে বামপন্থীরা জোটবদ্ধ হচ্ছে। এক দল তরুণ সমর্থক যারা চরম দক্ষিণপন্থার বিকল্প হিসেবে বামপন্থাকে আঁকড়ে ধরতে চাইছে এখন এ দেশে। কানহাইয়া কুমারের পাশাপাশি জিগ্নেশ মেবাণী, শেহলা রশিদেরা কথা বলা হয়েছে৷ এরা জনপ্রিয়তা পাচ্ছেন ৷ দলিত সমস্যা এদেশের বামপন্থায় গুরুত্ব পাচ্ছে। আর এই সব দেখে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির মন্তব্য- ‘নীল আকাশে লাল তারা’ দেখা যাচ্ছে।