বেজিং: ভুল করে কি তবে প্রকাশ্যে এসে গেল করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর আসল সংখ্যা? সরকারের তরফে ৫৬৫ জনের মৃত্যুর হিসেব দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু, সম্প্রতি প্রকাশ্যে এল অন্য তথ্য। করোনা ভাইরাসে হয়েছে ২৪ হাজার ৫৮৯ জনের।

চিনা প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান টেনসেন্ট থেকে ফাঁস হওয়া সাম্প্রতিক এক তথ্য এ সংখ্যাগুলোকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে- করোনা ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ২৪ হাজার ৫৮৯ জনের। আর আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৩ জন। ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে।

টেনসেন্টের ওয়েবপেজে ‘মহামারি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ’ শিরোনামে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে কিছুক্ষণ পরই টেনসেন্ট তাদের তথ্য সংশোধন করে নেয়। সংশোধনের পর সেখানে সরকারি হিসাব ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, সরকারি হিসেব বলছে, শুক্রবার পর্যন্ত করোনা ভাইরাস সংক্রমণে চিনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৬৩ জন। আরও মৃত্যুর আশঙ্কা থাকছে। ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত। বৃহস্পতিবার চিনে মৃত্যু হয়েছে ৭৩ জনের। এর মধ্যে হুবেই প্রদেশেই ৭০ জন।

গত দু সপ্তাহ ধরে চিনের অন্যান্য অংশ থেকে পুরো বিচ্ছিন্ন হুবেই প্রদেশ। এই প্রদেশের উহান শহর থেকে ছড়িয়েছে মারণ করোনা ভাইরাস। বিবিসি ও এপি সংবাদ সংস্থার খবর, চিনে নতুন করে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৯৮৭ জন। মৃত্যুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। চিনা সংবাদ সংস্থা জিনহুয়ার সংবাদেও ধরা পড়েছে আতঙ্ক।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) জানাচ্ছে, চিনের অবস্থা আরও সঙ্গীন। এই মৃত্যু মিছিলের শেষ কোথাও কারোর জানা নেই। হু বিশ্ব জুড়ে জারি করেছে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি-হেল্থ এমার্জেন্সি।

তবে গবেষকদের বিরামহীন যুদ্ধ চলছে অদৃশ্য করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে। যদিও প্রতিষেধক এখনও হাতের নাগালে নেই। এই অবস্থায় চিন এখন মৃত্যুপুরী।

করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন দেশ থেকে চিনে আসা ও বেরিয়ে যাওয়ার নিয়মে আনা হয়েছে বেশকিছু নিষেধাজ্ঞা। চিনের স্থল সীমান্ত লাগোয়া ১৪টি দেশ খুবই উদ্বিগ্ন। ইতিমধ্যে ভারত সহ প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশ চিনা নীগরিকদের ভিসা দেওয়ার সাময়িক বন্ধ করেছে।