বেজিং: একে করোনায় রক্ষা নেই। তার উপর আবার হান্টাভাইরাস, আরও পরে সোয়াইন ফ্লু। আর এরই মধ্যে এবার নতুন করে শুরু হয়েছে ‘বাবোনিক প্লেগ’। নয়া এই প্লেগ রোগের উৎসস্থল হিসেবে সৌজন্যে সেই চিন দেশ। করোনা মহামারীর মাঝেই একের পর এক ভয়াবহ ভাইরাস আর ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে আতঙ্কিত চিনা জনজীবন।

জানা গিয়েছে, নতুন করে চিনে ছড়াতে শুরু করেছে ইঁদুর বাহিত এই ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। চিনা সংবাদসংস্থা ‘জিংহুয়ায়’ প্রকাশিত রিপোর্টে নয়া এই রোগের কথা জানা গিয়েছে। সূত্রেএ খবর, চিনের পশ্চিম মঙ্গোলিয়ার খোভদ প্রদেশের বায়ান্নুরে সম্প্রতি দুই সম্ভাব্য বাবোনিক প্লেগে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে। আক্রান্ত দুজনের বয়স যথাক্রমে ১৭ এবং ২৭।

জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ওই দুইজন একই পরিবারের সদস্য এবং সম্পর্কে তাঁরা ভাই হয়। এই দুই আক্রান্তের সংস্পর্শে আশা আরও অন্তত ১৪৬ জনকে চিহ্নিত করে আইসোলেট করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, আক্রান্তরা মারমেটের মাংস খেয়েছিলেন। এর আগেও গত বছর দুজন স্বামী স্ত্রী এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন।

বাবোনিক প্লেগের সংক্রমণ রুখতে বায়ান্নুর এবং মঙ্গোলিয়া প্রদেশের বেশ কিছু অঞ্চলে লেভেল-থ্রি সতর্কতা জারি করেছে সেখানকার প্রশাসন। ওই এলাকাগুলিতে সব রকম পশু শিকারের উপর আপাতত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শুধুতাই নয়, নতুন করে আর যাতে কোনও মহামারীর উপদ্রব না হয় তা ঠেকাতে ২০২০ সালের শেষ পর‍্যন্ত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা লাগু থাকবে।

চিনা স্বাস্থ্য অধিকর্তাদের দাবি, বাবোনিক প্লেগ হল একটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত মারণ রোগ। এই রোগে আক্রান্ত হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরও মৃত্যু হতে পারে। তাই নতুন করে মহামারির আতঙ্কে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পশ্চিম মঙ্গোলিয়ার খোভদ প্রদেশের বেশ কিছু অঞ্চলে মহামারীর সংক্রান্ত জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এদিকে গত ১১ জুন থেকে ৪জুলাই পর‍্যন্ত বেজিং মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছুঁয়েছে ৩৩৪। এখনও পর‍্যন্ত নতুন করে মৃত্যুর খবর নেই। তবে আক্রান্তদের মধ্যে ৪৭শতাংশ মানুষই চিনের বিভিন্ন ফুড মার্কেটে কাজ করতেন। প্রসঙ্গত, সারা বিশ্বে এখনও পর‍্যন্ত করোনা আক্রান্তর সংখ্যা ১ কোটি ১৫ লক্ষ ছাড়িয়েছে।

মোট মৃত্যু হয়েছে ৫ লক্ষ ৩৬ হাজার ৮৪২ জন। করোনায় সারা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বিধ্বস্ত আমেরিকা, তারপরেই ব্রাজিল এবং তৃতীয় স্থান ভারতের। আমেরিকায় মোট আক্রান্ত ৩০ লক্ষের কাছে। ব্রাজিলে আক্রান্তর সংখ্যা ১৬ লক্ষ ছাড়িয়েছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ