পরেশ বড়ুয়া

গুয়াহাটি: মায়ানমার থেকে উত্তর পূর্ব ভারতে আগ্নেয়াস্ত্র পাচার করছেন আলফা (স্বাধীনতা) প্রধান পরেশ বড়ুয়া৷ তাকে সাহায্য করছে চিনের গুপ্তচর সংস্থা৷  ‘The Indian Express’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনই দাবি করেছেন অসম পুলিশের এডিজি এল.আর. বিষ্ণোই৷ তিনি জানিয়েছেন, শুধু আলফা  (স্বা.) জঙ্গিদেরই নয়, উত্তর পূর্বের আরও কয়েকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে অনবরত আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করছে চিনের গুপ্তচর সংস্থাগুলি৷ এই অস্ত্র চোরাচালানের জন্য তাদের পছন্দের ‘রুট’দেশের ইউনান প্রদেশ সংলগ্ন উত্তর মায়ানমারের কাচিন এলাকা৷ আর কাচিন হয়েই ভারতে অনুপ্রবেশ করা যায়৷

বিভিন্ন সূত্র থেকে গত ৯ ডিসেম্বর  www.kolkata24x7.com ‘চিন থেকে নাশকতার ছক আলফা সুপ্রিমো পরেশ বড়ুয়ার’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছিল৷এতে তুলে ধরা হয়, কেমন করে চিনের রুইলি গ্রামে ঘাঁটি গেড়ে নাশকতার চেষ্টা চালাচ্ছেন আলফা (স্বা.) কমান্ডার ইন চিফ পরেশ বড়ুয়া৷

বিস্তারিত জানতে পড়ুন: চিন থেকে নাশকতার ছক আলফা সুপ্রিমো পরেশ বড়ুয়ার

রুইলি (Ruili) হল ইউনান প্রদেশের একটি সীমান্ত শহর৷ এটি মায়ানমারের সংলগ্ন৷ এখান দিয়েই সীমান্তপারের বৈধ ও অবৈধ লেনদেন হয়ে থাকে৷ এডিজি অসমের দাবি, চিনা গুপ্তচর সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা করে উত্তর পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির হাতে আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দেওয়ার বিস্তারিত পরিকল্পনা করেছেন পরেশ বড়ুয়া৷

সম্প্রতি আলফার আলোচনাপন্থী শিবিরের  নেতা ও একদা পরেশ বডুয়ার ডানহাত অনুপ চেতিয়া জানান,   শান্তি বৈঠকে বসতে চলেছেন বড়ুয়া৷ তাঁর বয়ানে দিল্লি ও উত্তরপূর্ব ভারতে আলোড়ন ছড়ায়৷ তবে অসমের এডিজি যেভাবে আলফা কমান্ডারের অস্ত্র ব্যবসার কথা জানিয়েছেন তাতে শান্তি আলোচনার কোনও ক্ষীণ সম্ভাবনা নেই বলেই বিশেষজ্ঞদের অভিমত৷

অসমের এডিজি আরও জানান, বিশেষ সময়ে  চিনের রুইলি থেকে মায়ানমার-ভারত সীমান্ত লাগোয়া আলফার ঘাঁটি পরিদর্শন করেন পরেশ বড়ুয়া৷ নাগা জঙ্গি সংগঠন এনএসসিএন (খাপলাং)-এর সঙ্গেও বড়ুয়ার বিশেষ যোগাযোগ রয়েছে৷ এই দুই সংগঠনই উত্তর পূর্ব ভারতে অন্যতম শক্তিশালী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী৷

সূত্রের খবর, পরেশ বড়ুয়া চিনে আশ্রয় নিলেও এনএসসিএনের যুদ্ধপন্থী নেতা এসএস খাপলাং এখনও মায়ানমারেই আছেন৷ বর্ষীয়ান খাপলাং অসুস্থ হয়েছিলেন৷ গোপনে তাঁর চিকিৎসা হয়েছিল ইয়াঙ্গনের একটি নার্সিংহোমে৷ খাপলাংয়ের মতো ভয়ঙ্কর জঙ্গিদের বিরুদ্ধে মায়ানমারের মাটিতে কয়েকবার (১৯৯৫, ২০০৬, ২০১৫) সেনা অভিযান চালিয়েছে ভারত৷  সর্ব শেষ অভিযানের পর সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে খাপলাংকে খানিকটা পিছু হটতে হয়৷

অসমের এডিজি জানিয়েছেন, পরেশ বড়ুয়া ও এসএস খাপলাং যৌথভাবে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করেছেন৷ তাতে আক্রমণ আরও জোরালো হবে৷ সম্প্রতি মণিপুর ও সংলগ্ন কয়েকটি এলাকায় জঙ্গি হামলায় এর প্রমাণ মিলেছে৷