প্রতীকী ছবি

বেজিং: করোনাভাইরাসের জেরে বিপর্যস্ত গোটা দুনিয়া। তবুও কমছে না আতঙ্ক। দিন যতই যাচ্ছে ততই যেন, করোনার করাল গ্রাসে বেশি করে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে বিশ্ব। পৃথিবীর এমন জটিল অসুখে লকডাউনের বিষয়ে পশ্চিমি দুনিয়ার দেশ গুলিকে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ডঃ ঝং।

ডঃ ঝং হলেন চিনের একজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী। যিনি করোনাভাইরাস নিয়ে পৃথিবীর অন্যান্য গবেষকদের মতো নিরন্তন গবেষণা, পরীক্ষা নিরিক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও এখনও পর‍্যন্ত এই অতিমারীর রাশ গোটা বিশ্বের কোনও দেশই টানতে পারেনি বা পারছে না।

এই অবস্থায় চিনের একটি দৈনিক সংবাদ পত্রে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ঝং বলেন, “করোনার মতো মহামারী রুখতে গেলে পশ্চিমি দুনিয়ার দেশগুলিকে লকডাউনের ব্যাপারে আরও সর্তক এবং কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে, তবেই করোনা ভাইরাসের জেরে পশ্চিমি দুনিয়ার মৃত্যু মিছিল কমতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “করোনা ভাইরাস রোধ করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই লম্বা লকডাউনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও, এর তেমন সুফল যে মিলছে না, প্রতিদিনের মৃত্যু মিছিল তারই প্রমাণ দিচ্ছে। এই অবস্থায় পশ্চিমি দুনিয়া তথা ইউরোপ, আমেরিকা সহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলির রাষ্ট্র প্রধানদের উচিত, লকডাউনের বিষয়ে আরও বেশী কঠোর এবং দেশবাসীকে ওয়াকিবহাল করে তোলা। তাতেও যদি কিছুটা উপকার মেলে।”

কারন, বর্তমানে লকডাউনের জেরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা কার্যত গৃহবন্দি হয়ে রয়েছেন। তবুও বেশকিছু সবজান্তা পাবলিক লকডাউন ভেঙে চলে আসছে রাস্তায়। নিয়ম ভেঙে প্রকাশ্যে খেলাধুলো, গল্পের আসর বসাতেও দেখা গিয়েছে। আবার কোথাও, কোথাও মাঠে বা পার্কে জড়ো হয়ে লোকজনকে খোশমেজাজে গল্পও করতে দেখা গিয়েছে। যেগুলি বর্তমানে সময়ে কোনওটাই কাম্য নয়। কারন, মানুষ নিজে সচেতন না হলে অদৃশ্য এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জেতা অসম্ভব।

এই অবস্থায় ইউরোপ ও আমেরিকার নাগরিকদের লকডাউনের বিষয়ে আরও সর্তক হওয়ার বার্তায় দিয়েছেন ঝং। এদিকে, চিনে যখন মৃত্যু মিছিল কমছে তখম ইউরোপ, আমেরিকার ছবি একেবারে বিপরীত। গত ২৪ ঘন্টায় আমেরিকায় মোট ১১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও সেদেশে মৃতের সংখ্যা ছুঁয়েছে ১১ হাজারের কাছে। অন্যদিকে বুধবার পর‍্যন্ত চিনে নতুন করে কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।