লন্ডন: করোনা আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে গোটা ইউরোপ। আর এর মধ্যেই আরও একটি সমস্যা তৈরি হয়েছে। সেটি হল মাস্কের অভাব। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে এমনকী স্বাস্থ্যকর্মীরাও পর্যাপ্ত পরিমাণে মাস্ক পাচ্ছেন না। কিন্তু এই অবস্থায় চিনের ব্যবসায়ীরা নাকি ইউরোপের ব্যবসায়ীদের মাস্ক পাঠাতে চাইছে। স্পেনের ফার্নিচার স্টোর গ্রুপের একজন উচ্চ আধিকারিক এই বিষয়ে খুব অবাক হয়েছেন যে বিজনেস পার্টনার ও চিনের ব্যবসায়ীরা মাস্ক পাঠাতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন থেকে এমনই জানা যাচ্ছে।

চিন থেকেই শুরু হয়েছিল এই মহামারী। এমনকী, সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের মধ্যেও নতুন করে এই রোগ মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে দেখা গিয়েছে। যদিও চিনের মৃতের সংখ্যাকে এখন ইউরোপ ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে ইটালি, স্পেন যেন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। আর তার জন্যই স্বাস্থ্যকর্মীদের হেলথ প্রোটেক্টিভ গিয়ারের প্রয়োজন পড়ছে।

স্পেনের রে কর্পোরেশনের বাণিজ্যিক আধিকারিক ইগনাসিও রে বলছেন, আমি বহু বছর চিনে কাজ করেছি। ওখানে থাকলে তাঁরা উপহার স্বরূপ কুকিজ, চা , অ্যালকোহল দেয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সাপ্লায়ার্সরা কোনও উপহার পাঠায়নি।

তবে রে আশা করছেন আগামী সপ্তাহের মধ্যে চিন থেকে অন্য় উপহার না এলেও, এবার ১০০ টি মাস্কের পার্সেল আসবে। সেই মাস্কগুলি চিনের স্বাস্থ্যকর্মীদের দেবেন বলে তিনি ঠিক করেছেন। তবে চিন থেকে এগুলি বিনামূল্যেই পাঠানো হবে। রে বলছেন, ওরা এটা ব্যবসার জন্য করছে না। ওরা টাকা নেবে না। ওরা খুবই সচেতন।

চিন ও ইউরোপের বিজনেস কর্তারা বলছেন, মূলত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ভালো করার জন্যই এই মাস্ক ও হেলথ গিয়ার পাঠানোর কৌশল নিয়েছে চিন। বিশেষ করে চিনের বাজারের সঙ্গে ইউরোপের যে সব আমদানি রপ্তানির ব্যবসায়ীরা জড়িত তাদের মাস্ক পাঠিয়ে সৌজন্য দেখাচ্ছে চিন।

বেজিং বেস্ট বাই ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলিতে ওয়াইন রপ্তানি করে। সেই সংস্থার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সং লি বলছেন, ইউরোপের ক্লায়েন্টদের এই মাস্ক সৌজন্যের খাতিরে এবং সম্পর্ক ভালো করার জন্য পাঠাচ্ছে তাঁর সংস্থা। চিনে এখন মাস্ক খুব সহজেই পাওয়া যায়।

অস্ট্রিয়া ও নেদারল্যান্ডসেও মাস্ক পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু ইউরোপের সকলেই যে এই উপহার গ্রহণ করছে তা নয়। চিনের সংস্থা জেজাং জিয়াকইং হাইএন্টার স্ট্যান্ডার্ড পার্টস কোম্পানির সেলস ডিরেক্টর জেরি গুয়ো বলছেন, ইউরোপে যে ক্লায়েন্টসদের সঙ্গে আমি বহু বছর ধরে কাজ করছি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেছি মাস্ক লাগবে কি না।

যদিও তাঁর পাঠানো মাস্ক অনেকেই নাকি গ্রহণ করেননি। তিনি বলছেন, আসলে পশ্চিমের দেশের মানুষ মাস্ক পরতে অভ্যস্ত নন।