বেজিং: এমনিতে যে শহর জলসমস্যায় ভোগে, তা-ই নাকি ধীরে ধীরে অতলে তলিয়ে যাচ্ছে! অবাক লাগলেও ঘটনা এ রকমই। ডুবতে-বসা এই শহরের নাম বেজিং। একটি গবেষণা বলছে, বেজিং প্রতি বছর ১১ সেন্টিমিটার করে বসে যাচ্ছে।  এর মূল কারণ, এখানকার মাটির তলার জলের পরিমাণ কমে যাওয়া।

উপগ্রহ চিত্র ও জিপিএসের মাধ্যমে যে রিপোর্ট হাতে এসেছে তা বলছে দুই কোটি জনসংখ্যা বিশিষ্ট বেজিংয়ের এই পাতাল প্রবেশ ঘটছে প্রতিনিয়ত। গত ২০০৩  থেকে ২০১০, এই সাত বছরে মাটির নীচে মারাত্মকভাবে ঢুকে যাচ্ছে তার জমি। শুধু তাই নয়, গত কয়েক বছরের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে জানাচ্ছে স্যাটেলাইট ছবি। মধ্য বেজিংয়ের এলাকাগুলির অবস্থা সব থেকে খারাপ। যে জনবসতি এলাকাগুলিতে লাল সতর্কতা জারি হয়েছে, সেগুলি হল চাওইয়াং, চাংপিং, শুন্যি, তংঝউ। এই চারের মধ্যেও বিশেষভাবে নজরে পড়ছে চাওইয়াং। পৃথিবীর সব থেকে জলকষ্টে ভোগা অঞ্চলগুলির মধ্যে বেজিং স্থান এখন পঞ্চম।

তার কারণ, ভূগর্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ জল সেখানে তোলা হয়েছে। জনবসতি যত বেড়েছে, ততই অন্য কোনও বিকল্প উৎস না খুঁজে মাটির তলা থেকেই ক্রমাগত জল তুলেছে সেদেশের অবিমৃষ্যকারী একদলীয় শাসকেরা৷ এভাবে একদিকে যখন হু হু করে নেমেছে জলস্তর, তখনই অন্যদিকে আবাসন ও কলকারখানা বাড়াতে কাটা হয়েছে গাছপালা৷ অতঃপর পরিত্যক্ত খনি এলাকায় যেমন ঘটে, ঠিক সেভাবেই চিনের রাজধানীর মাটি বসতে শুরু করে দিয়েছে। ভূগর্ভ শূন্য, মাটির উপরে গাছপালা নেই, অনিবার্যভাবে কমে গিয়েছে ধরিত্রীর ধারণ ক্ষমতা। এভাবেই ক্রমশ ঘটছে বেজিংয়ের পাতাল প্রবেশ।