নয়াদিল্লি: গায়ের জোরে সীমান্তের দিকে এগিয় এসেছিল চিন। গালওয়ান ভ্যালি, প্যাংগং সহ ভারতের সীমান্তবর্তী একাধিক জায়গায় কার্যত আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে সৈন্য মোতায়েন করে বেজিং। আপাতত একটি সরে গেলেও এখনও লাদাখ পুরোপুরি শত্রু মুক্ত নয়। তাই চিনকে ভাতে মারার উদ্দেশ্যেই চিনের একের পর এক অ্যাপ ব্যান করেছে ভারত। আর তাতেই কপালে ভাঁজ পড়েছে প্রতিবেশী এই দেশে।

কয়েকদিন আগেই অ্যাপ ব্যান করার বিষয়ে ভারতকে রীতিমত হুঁশিয়ারি দিয়েছিল চিন। এবার ফের একবার অর্থনীতিতে নিয়ে ভারতকে সতর্ক করল বেজিং। জোর করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে বলে ভারতের দিকে আঙুল তুলল চিন।

চিনা রাষ্ট্রদূত সান ওয়েডগ এমনই বার্তা দিলেন। ট্যুইটারে তিনি লিখেছেন, ভারত-চিনের অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক, একে অপরের উপর নির্ভরশীল। তাই জোর করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে চাইলে তাতে হার হবে। তিনি আরও বলেন, চিন মোটেই ভারতের জন্য কৌশলগত দিক থেকে কোনও হুমকির কারণ নয়। দুই দেশ যে একে অপরকে ছাড়া চলতে পারবে না, সেই বিষয়টা অপরিবর্তিত থাকছে।

প্রথম দফায় ৫৯টি ও পরের দফায় ৪৭টি চিনা অ্যাপ ব্যান করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে টিক টক, উই চ্যাট সহ একাধিক জনপ্রিয় অ্যাপ। এরপরই ভারতকে সেইসব অ্যাপ নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গে সতর্ক করে চিন।

চিনের তরফ থেকে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে ভারতকে। বলা হয়েছে, যাতে এই ব্যান ভারত তুলে নেয়। ভারতের উচিৎ এই ভুল শুধরে নেওয়া, এমনটাই বলা হয়েছে সেই বার্তায়। চিনা দূতাবাসের মুখপাত্র জি রং বলেন, ভারতের উচিৎ WeChat অ্যাপ ব্যান করে দেওয়া ঠিক নয়। তা তুলে নেওয়া উচিৎ।

জাতীয় সুরক্ষার পক্ষে ক্ষতিকারক এই অভিযোগে গত ২৯ জুন টিকটক-সহ ৫৯টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে দেয় ভারত সরকার। তখনও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল বেজিং। এরপর সোমবার আরও ৪৭টি অ্যাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে নয়াদিল্লি। এই অ্যাপগুলি মূলত আগের নিষিদ্ধ অ্যাপগুলির ক্লোন হিসেবে কাজ করছিল। সেগুলির মধ্যে রয়েছে টিকটক লাইট, হেলো লাইট, শেয়ার ইট লাইট, বিগো লাইভ লাইট, ভিএফওয়াই লাইটের মতো অ্যাপ। দ্বিতীয় দফায় এই সব অ্যাপ নিষিদ্ধ করার পরই কড়া প্রতিক্রিয়া দেয় চিন।

সম্প্রতি, সেনা সরানোর বিষয়ে চিনকে কড়া বার্তা দিয়েছে ভারত। সীমান্ত থেকে বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার দাবি করার মাত্র দু’দিন পরেই চিনকে জবাব দেয় ভারত। দুদিন আগে চিনের তরফে দাবি করা হয়, সীমান্ত এলাকায় বেশিরভাগ জায়গায় সেনা সরানোর কাজ শেষ হয়েছে এবং পরিস্থিতি সহজ হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার চিনের এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে ভারত।

বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, পরিস্থিতির কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে ঠিকই। তবে সেনা নিষ্ক্রিয়করণের কাজ সম্পূর্ণ এখনও শেষ হয়নি। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দুই পক্ষের সিনিয়র কমান্ডাররা অদূর ভবিষ্যতে বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখা ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি। তিনি বলেন, ভারত আশা করে, চিনা প্রতিনিধিরা শীঘ্রই সীমান্ত অঞ্চলে সম্পূর্ণরূপে সেনা নিষ্ক্রিয়তা ও শান্তি পুনঃস্থাপনের জন্য আন্তরিকভাবে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ