নয়াদিল্লি: ভারতকে বিপাকে ফেলতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে চিন। সেই লক্ষ্যেই এবার ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করার চেষ্টায় বেজিং। করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো থেকে শুরু করে বাংলাদেশ থেকে চিনে রফতানি করা পণ্যে ৯৭ শতাংশ শুল্ক মুক্ত করেছে চিন। এমনকী করোনার টিকা আবিষ্কার হলে তা দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোরও আশ্বাস দিয়েছে চিন।

সব মিলিয়ে ভারতের সঙ্গে বিবাদ জিইয়ে রাখতে বাংলাদেশকে ব্যবহার করার নয়া কৌশল নিয়েছে চিন। বেজিংয়ের পদক্ষেপে নজর রয়েছে দিল্লির। এই আবহেই সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত করে পাঠানো হচ্ছে দুঁদে কুটনীতিবিদ বিক্রম ডরাইস্বামীকে।

নেপালকে ক্রমাগত ভারত-বিরোধী কার্যকলাপে মদত জুগিয়ে চলেছে চিন। চিন-সখ্যতায় ভারতের তিনটি এলাকা নিজেদের মানচিত্রে তুলে এনেছে নেপাল সরকার। নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে পকেটে পুরে ফেলতে অনেকটাই সক্ষম হয়েছে জিংপিং প্রশাসন।

অবশ্য চিন-সখ্যের জেরে ইতিমধ্যেই তার খেসারতও দিতে হচ্ছে নেপালের প্রধানমন্ত্রীকে। চিনের উসকানিতে দীর্ঘদিনের বন্ধু দেশ ভারতের সঙ্গে বিবাদ বাড়ানোয় ওলিকেই দুষছে নেপালের শাসকদল। নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির একাধিক শীর্ষনেতা ওলিকে পদত্যাগে চাপ দিচ্ছেন।

এরই মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গেও সখ্যতা বাড়িয়ে চলেছে চিন। জিংপিং প্রশাসনের সেই চেষ্টায় সাড়া মিলেছে হাসিনা সরকারের তরফেও। ফলে এবার পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নেমেছে মোদী সরকারও। আগামী সেপ্টেম্বরেই বর্তমানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত রিভা গঙ্গোপাধ্যায় দাস বিদেশমন্ত্রকের সচিব (পূর্ব) হয়ে দিল্লিতে ফিরবেন।

রিভার জায়গায় এবার বাংলাদেশে ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত করে পাঠানো হবে দুঁদে কুটনীতিবিদ বিক্রম ডরাইস্বামীকে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ও মায়ানমার বিষয়ক অতিরিক্ত সচিব পদে কর্মরত রয়েছেন বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সব রকমভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাবে ভারত।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ভারতে বিতর্কের রেশ পৌঁছয় বাংলাদেশেও। ঢাকাও যে সিএএ নিয়ে দিল্লির উপর বিরক্ত তা স্পষ্ট। কূটনীতিবিদদের দাবি, সেই কারণেই গত কয়েকমাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা করতে দেখা যায়নি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কোনও মন্ত্রী বা নেতার।

পড়শি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারপ করতে চায় না ভারত। সেই কারণেই এবার দুঁদে কুটনীতিবিদ বিক্রম ডরাইস্বামীকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত করে পাঠানো হচ্ছে। সব পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনাই চায় দিল্লি। নতুন এই দূত পাঠিয়ে বাংলাদেশকে সেই বার্তায় দিতে চায় ভারত।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ