বেজিং: হংকং-এ নতুন জাতীয় সুরক্ষা আইনের বিরোধিতা করে চিনের পড়ুয়াদের উপর বিধিনিষেধ জারি করেছে আমেরিকা, সেই উত্তরে ওয়াশিংটনকে কড়া প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে চিন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, আমেরিকা শীঘ্রই কিছু চিনা পড়ুয়াকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে এবং কাস্টমস এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে হংকংয়ের স্পেশাল স্ট্যাটাস বদলের ভাবনা জানিয়েছে। যেহেতু চিন বিতর্কিত সুরক্ষা আইন চাপানোর ভাবনায় আছে তাই এমন কথা জানিয়েছে আমেরিকা।

তাঁর কথায়, “বছরের পর বছর চিনা গুপ্তচরেরা আমাদের বিভিন্ন শিল্পের গোপন তথ্য চুরি করছে”। এর আগে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির অনেক নেতা দাবি তুলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকটি বিষয়ে যেন চিনা ছাত্রদের ভর্তি না করা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে এফবিআই জানায়, চিনা গুপ্তচরদের বিরুদ্ধে এক হাজার মামলা চলছে। অভিযোগ, তারা প্রযুক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য চুরি করেছিল।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, চিন সরকার হংকংয়ের দীর্ঘদিনের গর্বের স্ট্যাটাস নিজেই ক্ষুণ্ণ করছে। সোমবার সে বিষয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছে চিন। জানিয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত দুই তরফের জন্য ক্ষতিকারক হবে।

চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান জানিয়েছেন, “চিনের কোনও কার্যকলাপে বাধা সৃষ্টি করলে কড়া প্রত্যাঘাত করবে চিন”। আরও বলেছেন, চিনের অভ্যন্তরীন কার্যকলাপে আমেরিকার নাকগলানোয় চিন-আমেরিকা সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে।

আগেই সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেছিলেন, হংকং-এর সঙ্গে বেশ কয়েকটি অন্যায্য আচরণ করেছে চিন। দীর্ঘকাল যাবৎ বিশ্বে ওই শহরটির একটি গৌরবের স্থান ছিল। কিন্তু ওই প্রাক্তন ব্রিটিশ উপনিবেশটি চিনের হাতে আসার পর থেকে তার সেই স্থানটি নষ্ট হতে বসেছে। ট্রাম্পের কথায়, “এই ব্যাপারটি হংকং, চিন তথা সারা বিশ্বের কাছেই এক ট্র্যাজেডি।”

ইতিমধ্যেই করোনা ভাইরাস নিয়ে চিনকে গোটা বিশ্বের পাশাপাশি দুষছে আমেরিকা। এমনকি দেশের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার জন্য দোষারোপ করা হয়েছে চিনকেই।

পাশাপাশি, গোটা বিশ্বে চিন থেকেই করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে তা নিয়ে বড়সড় ক্ষতিপূরণ চাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে ট্রাম্প জানান, আমেরিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছে। কারণ করোনা সংকটে চিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে ওই সংস্থা। ট্রাম্প কিন্তু একবারও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সমালোচনা করেননি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগে একাধিকবার বলেছেন, জিনপিং-এর সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের সম্পর্ক আছে। তবে ফের হু-এর সঙ্গে সম্পর্ক ফেরানোয় শর্তসাপেক্ষ কঠা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প