নয়াদিল্লি : চিনের হাত ধরে রাষ্ট্রসংঘে গিয়ে গর্জন করার দাবি জানিয়েছিল পাকিস্তান৷ একদা ‘বন্ধু’ চিন তাদের সাহায্য করবে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে, এমনই আশা ছিল তাঁদের৷ কিন্তু সে গুড়ে যে বালি, তা চিনের অবস্থানই পরিষ্কার করছে৷ কারণ কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই রাষ্ট্রসংঘে যাওয়ার গর্জন করছে ইসলামাবাদ৷ তাদের পিছনে নাকি রয়েছে চিনের চালিকা শক্তি৷ মঙ্গলবার রাষ্ট্রসংঘের দ্বারস্থও হয়েছে তারা৷

কিন্তু এই প্রসঙ্গে চিন চুপ৷ এখনও পর্যন্ত কাশ্মীর নিয়ে নয়াদিল্লির সিদ্ধান্তে সেই অর্থে বিরোধিতা করতে শোনা যায়নি বেজিংকে৷ ফলে পাকিস্তানের পাশে চিন কতটা দাঁড়াবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে৷ কারণ সরকারি ভাবে এখনও বেজিং পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর কোনও বার্তা দেয়নি৷ এমনকী ইসলামাবাদের এই দাবির স্বপক্ষেও কোনও কথা বলতে শোনা যায়নি বেজিংকে৷

দিন চারেক আগে, পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি জানান, “পাক-সরকার এই বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে যাবে। তবে তার জন্য চিনের সাহায্য প্রয়োজনীয়।” এই বিষয়ে চিনের কি বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চিন পূর্ণ সমর্থন দিয়ে পাকিস্তানকে আশ্বস্ত করেছে।”

আরও পড়ুন : সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দিয়ে সম্মানিত পাঁচ ভারতীয় বায়ুসেনা

এই বিষয়ে সমর্থন চেয়ে পাকিস্তান সরকার, ইন্দোনেশিয়া ও পোল্যান্ডের সাথেও কথা বলার কথা ভেবেছিলেন বলে জানান। এই দুই দেশই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের অস্থায়ী সদস্য।

চিনের নীরবতাই বার্তা দিয়েছে পাকিস্তানকে, মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল৷ তবে এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আরেক অস্থায়ী সদস্য পোল্যাণ্ডও৷

মঙ্গলবার রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তান জানায়, কাশ্মীর প্রসঙ্গে তারা এখনও চুপ রয়েছে, কিন্তু ভারত যেন সেই চুপ থাকাকে পাকিস্তানের দুর্বলতা না ভাবে৷ তবে পোল্যাণ্ডের বিবৃতি, কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে দুই দেশেরই আলোচনার টেবিলে বসা উচিত৷

আরও পড়ুন : অধিকৃত কাশ্মীর সফরে ইমরান খান, চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন ভারতকে

এদিকে, রাষ্ট্রসংঘে ইসলামাবাদের চিনকে পাশে পাওয়ার আগেই পালটা চালে বাজিমাত করে ভারত৷ কৌশলী চালে ইসলামাবাদের পাশা উলটে দিতে তৈরি হয় নয়াদিল্লি৷ চিনকে নিজেদের পাশে পেতে বেজিং যাত্রা করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর৷ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনের প্রেসিডেন্ট জি জিংপিনের মধ্যে দ্বিতীয় সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়ে কথা বলতেই মূলত তাঁর এই সফর ছিল৷

জয়শঙ্করের সফরসূচি পূর্ব নির্ধারিত হলেও জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা নিয়ে চিনের অবস্থান সুস্পষ্ট করতে এই সফরে তাঁর একাধিক বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে৷ জানা গিয়েছে কাশ্মীর নিয়ে ভারতের পদক্ষেপ সীমান্তে কোনও প্রভাব ফেলবে না বলে বেজিংকে আশ্বস্ত করেছে নয়াদিল্লি৷