কাঠমান্ডু : ভারত সফরের পর শনিবার নেপাল উড়ে গিয়েছেন চিনা রাষ্ট্রপতি জিনপিং। তিনি জানিয়েছেন, নেপালের উন্নয়নের জন্য আগামী দুবছরে ৪৯২ ডলার দেবে চিন।

বর্তমানে নেপালে ক্ষমতায় রয়েছে কমিউনিস্ট পার্টি। গত ২৩ বছরের মধ্যে এটা নেপালে কোন চীনা প্রেসিডেন্টের প্রথম সফর। শেষবার ১৯৯৬ সালে ঝিয়াং জেমিন কাঠমান্ডু সফর করেছিলেন।

কূটনৈতিক মহলের জল্পনা, দক্ষিণ এশিয়ায় যে কটি দেশের উপর ভারতের প্রভাব রয়েছে তার একটি হল নেপাল। সেই প্রভাব ভাঙতেই ২০১৫ সাল থেকে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বেজিং। যদিও নেপাল সরকার এখনও নয়াদিল্লিকে বিশেষ প্রাধান্য দেয়। কিন্তু এই অবস্থায় নেপালের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে হাজির জিনপিং।

শুধু ৪৯২ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি না, জিং কাঠমান্ডুকে তাতোপানি ট্রানজিট পয়েন্টের সাথে সংযোগ রক্ষাকারী আরনিকো হাইওয়ে নতুন করে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন- যা ২০১৫ সালের ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পের পরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

চিনা রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, হিমালয় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে নেপাল ও চিনের ট্রেন চলাচল খুব শিগগিরি শুরু হবে। আর এব্যাপারে চিন নেপালকে বিশেষ সহায়তা করবে।

এছাড়া শনিবার জিনপিং বলেন, “আমাদের বন্ধুত্ব বিশ্বের কাছে বন্ধুত্বের মডেল। আমাদের দুই দেশের মধ্যে কোন সমস্যা নেই”।

উল্লেখ্য, এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধর ও বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দেশ হল ভারত ও চিন। তাদের মাঝখানে চরম ভৌগোলিক কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে রয়েছে নেপাল। কূটনীতির চালে নেপাল যে দিকেই বেশি ঝুঁকবে তার কড়া ফল পাবে অন্য পক্ষ। তাই চিন ও ভারত উভয়েই নেপালকে নিজেদের প্রভাবের মধ্যে রাখতে চেষ্টা করে।