কাঠমান্ডু ও বেজিং: লালের সঙ্গে লাল মেলালে কতটা গাঢ় হবে সেই রং? এতে দুশ্চিন্তায় নয়াদিল্লি৷ কারণ, দুই প্রতিবেশী কমিউনিস্ট সরকার শাসিত দেশ নেপাল ও চিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক চলতি অক্টোবরেই নজির তৈরি করতে চলেছে৷ নেপাল সফরে আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট জিনপিং৷

নেপাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানাচ্ছে৷ চিনা প্রেসিডেন্টের এই সফর ঐতিহাসিক৷ বেজিং থেকেও একই কথা জানানো হয়েছে৷ সাথে এও বলা হয়েছে, জিনপিং তাঁর ভারত সফর শেষ করেই নেপালে যাবেন৷

আর কাঠমান্ডুর সংবাদ মাধ্যমের খবর, অক্টোবরের মাঝামাঝি চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরের অপেক্ষায় নেপাল। ২৩ বছর পর চিনের কোনও প্রেসিডেন্টের এটা প্রথম নেপাল সফর৷ এতেই দেশের কমিউনিস্ট সরকার আগের চেয়ে আরও ঘনিষ্ঠ হবে।

নেপালের সংবিধান রচিত ও তা গৃহীত হওয়ার পরে গঠিত হয় বৃহত্তর কমিউনিস্ট জোট সরকার৷ ফের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন কে পি শর্মা ওলি৷ তিনি কুর্সিতে বসতেই চিনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গতি পেয়েছে৷ কূটনৈতিক মহলের ধারণা, ভারতের একেবারে ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে মরিয়া চিনের পক্ষে নেপালে বৃহত্তর পুঁজি বিনিয়োগের জন্যই কূটনৈতিক সফর করবে জিনপিং৷

ভারত ও চিনের মাঝখানে ভৌগোলিক কৌশলগত অবস্থান নেপালের৷ হিমালয় ঘেরা দেশটিতে ইন্টারনেট পরিষেবা ও সড়ক-রেলপথ নির্মাণ, বিরাট জলাধার প্রকল্পে বিপুল বিনিয়োগ করতে চলেছে চিন৷ জিনপিংয়ের সফরেই এই সব চুক্তি সম্পাদিত হবে৷

নেপালের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঈশ্বর পোখরেল জানিয়েছেন,চিনা প্রেসিডেন্টের সফরে কাঠমান্ডু ও কেরুংয়ের মধ্যে সড়ক নির্মাণের চুক্তি সই হবে। কেরুং হলো তিব্বতের মানস সরোবর যাওয়ার তীর্থযাত্রী ও ব্যবসায়ীদের থাকার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ৷

বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতে নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট সরকারের সঙ্গে মনোমালিন্য বাড়ছেই বলে নেপালের সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট৷ তবে কাঠমান্ডু জানিয়েছে, ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকবে৷

জিনপিংয়ের সফরের পিছনে ঐতিহাসিক কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কূটনীতিকরা দেখছেন, সঙ্গে হাত মিলিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নেপাল নিজের অবস্থান জোরালো করতে চায়৷দীর্ঘ সময় ভারতের সঙ্গে থাকার পরেও যেটি তেমন পাওয়া যায়নি৷

আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চিন যেভাবে শক্তিশালী ভূমিকা নিয়েছে সেটাই নেপালের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ৷ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও একই মনোভাবের সরকার থাকায় কাঠমান্ডু ঝুঁকেছে বেজিংয়ের দিকে৷