ইসলামাবাদ: আন্তর্জাতিক মহলে যতই মুখ পোড়াক পাকিস্তান, চিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব জাহিরের চেষ্টা ছাড়ছে না কোনওভাবেই। চিনও সেই পথে নারাজ নয়। সে সন্ত্রাসবাদে মদতের প্রসঙ্গই হোক বা পাকিস্তানকে আর্থিক সাহায্য করা। সব ক্ষেত্রেই পাকিস্তানের ওপর চিনের দাদাগিরির ছাপ বিদ্যমান। এবার নয়া খবর, পাকিস্তানের উন্নয়নমূলক কিছু প্রকল্পে ১০০ কোটির বিনিয়োগ করতে চলেছে চিন।

রবিবার এই খবর জানিয়েছেন পাকিস্তানে চিনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও জিং। তিনি জানান, বেজিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে ইসলামাবাদকে আর্থিক সাহায্য করার। সেক্ষেত্রে টাকার পরিমাণ হতে পারে ১০০ কোটি। ইসলামাবাদে ওমেন চেম্বার অফ কমার্সের এক সম্মেলনে যোগ দিয়ে এই তথ্য তুলে ধরেন ইয়াও জিং। তিনি বলেন সিপিইসি বা চিন-পাকিস্তান ইকনমিক করিডর প্রকল্পে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের অগ্রগতি যথেষ্ট সন্তোষজনক। এর পাশাপাশি, চিন-পাকিস্তান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টের দ্বিতীয় দফার কাজও অক্টোবরের মধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে।

চিনা রাষ্ট্রদূত জানান, এর ফলে পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে কৃষিপণ্য আমদানি রফতানি ও সামুদ্রিক খাদ্যদ্রব্য লেনদেনে শূণ্য শতাংশ শুল্ক লাগবে, যা দুই দেশের সম্পর্ককেই আরও মজবুত করবে। সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের রফতানির হার বৃদ্ধি পাবে ৫০০ মিলিয়ন ডলার, চাঙ্গা হবে অর্থনীতি। চিনও উপকৃত হবে।

এর আগে, পাকিস্তানে সিন্ধু নদের উপরে বাঁধ তৈরির ভাবনা চিন্তা শুরু করে চিন। এমনটাই এক সংবাদমাধ্যমে জানা যায়। ভারতের বাধা থাকায় ওই প্রজেক্ট থেকে মুখ ফিরিয়েছিল ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। অবৈধভাবে দখল করে থাকা অধিকৃত কাশ্মীরে এই বাঁধ তৈরিতে বাধা দিয়েছিল ভারত।

সূত্রের খবর, ডায়মের-ভাসা বাঁধ তৈরি করা হবে সিন্ধু নদে উপর। অধিকৃত কাশ্মীর ঘেঁষা গিলগিট-বালতিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে একটি বাঁধ প্রকল্প করার চেষ্টা করছিল পাকিস্তান। কিন্তু ভারতের বাধায় ভেস্তে যাচ্ছিল সেই পরিকল্পনা। এমনি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক থেকে সাহায্য পাওয়ার আশাও শেষ হয়ে এসেছিল। এবার পাকিস্তানের আশা চিন দেবে এই প্রজেক্টের টাকা। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানান পাকিস্তানের প্ল্যানিং মিনিস্টার।

তবে পাকিস্তান ও চিনের এই বন্ধুত্ব কতটা অগভীর, তা বেজিংয়ের কিছু মন্তব্যেই প্রকাশ পায়। দিন কয়েক আগেই চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লু কাং এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানান, চিন কখনই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে ভারত ও পাকিস্তানকে স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকী উত্তর কোরিয়াও পরমাণু শক্তিধর দেশ বলে মনে করে না চিন। এখনও তারা এই সিদ্ধান্তে কঠোর বলেও জানিয়েছে।