বেজিং:  করোনা আতঙ্কে গোটা বিশ্বের মানুষ। একের পর এক দেশে মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে এই রোগ। এই পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্বের মানুষ যখন আতঙ্কিত তখন কার্যত যুদ্ধের হুঁশিয়ারি। দক্ষিণ চিন সাগরে চলাচলকারী মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে বিদ্যুৎচৌম্বকীয় অস্ত্র ব্যবহারের আহ্বান জানাল চিন। কমিউনিস্ট চিনের সরকারি মুখপত্র গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত খবরে এমনটাই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সে দেশের একজন সামরিক মুখপাত্রকে কোট করে এমনটাই জানানো হল।

এতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ চিন সাগরে বেজিংয়ের অধিকৃত এলাকায় চলাচলকারী মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলিকে হটিয়ে দেওয়ার জন্য এই ধরণের অস্ত্র ব্যবহার করতে চিনের গণমুক্তি ফৌজের প্রতি আহ্বান জানান হয়। চলতি মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত ওই সাগর দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয় দফা মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ যাতায়াত করার পর হুঁশিয়ারি দিয়ে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।

বারবার মার্কিন আগ্রাসন ঠেকানোর জন্য নতুন পন্থা বেছে নিতে হবে বলে চিনের সামরিক বিশেষজ্ঞ সং জাওনংপিং জানান। আর এই সব পন্থার অন্যতম হতে পারে বিদ্যুৎচৌম্বকীয় বা লেসার অস্ত্র। আর এই জাতীয় অস্ত্র প্রয়োগে প্রাণহানির কোনও আশংকা নেই বলে একে নন লেথাল বা ‘অ-মারণাস্ত্র’ও বলা হয়। চিনের সামরিক বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে গোলাগুলি ছোঁড়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

কারণ তাতে মার্কিনিরা পাল্টা জবাব দেবে। শুধু তাই নয়, যে কোনও মুহূর্তে সেই সময় চিন-মার্কিন সংঘাতের সূচনা হবে। এ ছাড়া, ১৯৮৮ সালে কৃষ্ণসাগরে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ধাক্কা দেওয়া হলে তাতে কোনও সুফল পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, ‘অ-মারণাস্ত্রে’র প্রয়োগে শত্রু জাহাজের অস্ত্র ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সাময়িক ভাবে অচল হয়ে পড়বে।

গত মাসের ১৭ তারিখে দক্ষিণ চিন সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর গোয়েন্দা বিমান পি-৮৪ লক্ষ্য করে লেসার অস্ত্র প্রয়োগের কথাও তুলে ধরেন সং। তিনি একে ভাল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই জাতীয় অস্ত্র আরও প্রয়োগ করা যেতে পারে। দক্ষিণ চিন সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোকাবেলায় বেজিংয়ের প্রস্তুতি কয়েকগুণ বেড়েছে বলেই সং’এর বক্তব্যের ভিত্তিতে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।