বেজিং:  মহামারির আকার নিয়েছে করোনা ভাইরাস। চিনে ক্রমশ বাড়ছে মৃত্যু। শুধু চিনেই নয়, ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে ভয়াবহ এই মারণরোগ। তবে যেভাবে কমিউনিস্ট চিনে এই রোগ মহামারির আকার নিয়েছে তাতে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ভয়ঙ্কর এই রোগের কারণে শুধু মানুষের মৃত্যু ঘটছে এমন নয়, সে দেশের অর্থনীতিও তলানি এসে ঠেকেছে।

জানা গিয়েছে, মারণ এই ভাইরাসের কারণে গত একমাসে চিনের আর্থিক ক্ষতি এসে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় মুদ্রায় ৩০ লক্ষ কোটি। যতদিন এগোচ্ছে তাতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে। এই অবস্থায় গুচ্ছ গুচ্ছ কাগজের নোট পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিউনিস্ট সরকার। একদিকে ক্রমশ আর্থিক ক্ষতি এরপর সমস্ত কাগজের নোট পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে কমিউনিস্ট চিনে।

কিন্তু কেন এভাবে নোটগুলি পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে সে দেশে? বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে মারণ এই ভারাস রুখতে সদা সতর্ক বেজিং। চিনের পুরানো শহর হুয়ান। সেই শহর থেকেই প্রথম করোনা ভাইরাসের সূত্রপাত। এরপর তা মহামারির আকার নেয়। একেবারে দ্রুত গতিতে এক শরীর থেকে অন্য শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। এরপর মৃত্যু মিছিল। তবে নতুন করে যাতে ভাইরাস গোটা দেশে না ছড়িয়ে পড়ে সেজন্যে গোটা হুয়ান শহরকে ঘিরে ফেলা হয়। কাউকে বেরতে দেওয়া হয় না। এমনকি ঘরের বাইরেও কেউ যাতে না বের হতে পারে সেজন্যে অনেক ক্ষেত্রেই বহুতলের দরজা সিল করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। তবে অনেকে বলছেন টাকা থেকেও নাকি ভয়ঙ্কর এই মারণ রোগ ছড়াতে পারে।

যেমনই বলা তেমনই কাজ। গুচ্ছ গুচ্ছ কাগজের নোট পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে চিন সরকার কাগুজে নোট পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ব্যবহৃত সব কাগুজে নোট নষ্ট করে ফেলা হবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে চিনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চিনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ফ্যান ইয়েফেইকে কোট করে এমনটাই জানাচ্ছে সে দেশের সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

জানা যায়, ৬০ হাজার কোটি ইউয়ান নষ্ট করে ফেলা হবে। এরই মধ্যে সব ব্যাংকে পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশও পাঠানো হয়েছে। জারি করা নির্দেশিকাতে বলা হয়েছে, দেশের কোথাও কোনও ব্যাংকে আর কোনও কাগজের নোট গ্রহণ করা হবে না। নতুন নোট বাজারে ছাড়া হবে। আগামী ১৪ দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নোট বাজারে ছাড়ার আগে তা জীবাণুমুক্ত করা হবে। আপাতত পুরোনো নোট সংগ্রহ করে রাখবে চিনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বদলে মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হবে নতুন নোট।