সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : বাংলা,ইংরেজির মতো চিনাদের নতুন বছর হয়। কলকাতা যেহেতু চিনাদের একসময়কার অন্যতম বাসস্থান তাই নতুন বছর এলেই তা সারম্বরে পালিত হয় কলকাতার দুই চিনে পট্টি টেরিটি বাজার এবং ট্যাংরায়। প্রত্যেক বছরের মতো এই বছরেও নতুন বছরের আনন্দে মাতলেন চিনারা।

এই বছর চিনাদের নতুন বছর পড়েছিল ২৮ জানুয়ারি। সেইমতো নতুন বছর পালন উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছিল এক সপ্তাহ আগে থেকেই। এই বছর ছিল “ফায়ার রুস্টার ইয়ার”। প্রতি ৬০ বছর অন্তর এই  “ফায়ার রুস্টার ইয়ার” বা মোরগ বছর আসে। টেরিটি বাজারে অনুষ্ঠানের সূচনার পর ২৭ তারিখ ড্রাগন নাচ এবং পূজার আয়োজন হয় ট্যাংরার চিনা মন্দিরে। রাত ১২টায় মন্দিরে পূজা দেওয়ার পর রাতভর নেচে গেয়ে ড্রাম বাজিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। ২৮ জানুয়ারি বো ব্যরাকে লাল ড্রাগন এবং সিংহ নিয়ে নাচ দেখায় এলাকার চিনারা। দলে ভিড়েছিলেন অনেক এদেশীয়ও। এলাকার প্রবীণদের থেকে জানা গেল ড্রাগনগুলি আসলে শান্তির দূতবাহী। বিভিন্ন ফল ও লেটুস শাক নিয়ে সে আনন্দের বার্তা নিয়ে হাজির হয় বাড়িতে।


১৭৮০ সালে এদেশে প্রথম পা পড়ে চিনা ব্যবসায়ী টং আচিউ। তিনি বজবজে চিনির কল খুলে  পসার জমান। তারপর থেকেই কলকাতাতেও চিনাদের যাতায়াত বেড়ে যায়। এই চিনা ব্যবসায়িকে মনে রেখে একটি মন্দির গড়া হয়েছে বজবজে। নতুন বছরের পরের রবিবার কলকাতার সমস্ত চিনারা গিয়ে হাজির হন আচিউয়ের মন্দিরে। সেখানে গিয়ে বাতি জ্বালিয়ে পূজা করা হয়। জানা গেল এই বছরেও তার অন্যথা হবে না। তবে ১৯৫০ সালেও যখন পরিবহণের এত সুব্যবস্থা ছিল না সেই সময়েও ঘোড়া করে ফল ঝাণ্ডা নিয়ে গিয়ে পূজা যত বজবজের ওই আচিউ মন্দিরে।

নোট বদলের নতুন বছরে চিনাদের মোরগ বছর কেমন কাটবে তা বলা কঠিন। তবে নতুন বছরের শুরুর রংচঙে লাল , হলুদটা বড়ই ভালো লাগার। কারণ কমে আসা কলকাতার চিনাদের চিনতে গেলে ভরসা এই নতুন বছর।