লন্ডন; ৩৯ জন চিনা নাগরিকের রহস্যজনক মৃতদেহ উদ্ধারে জট ক্রমেই জটিল হতে চলেছে৷ যে লরি থেকে এই দেহগুলি মিলেছে তার চালককে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তাকে অনবরত জেরা করছে লন্ডন পুলিশ৷ টানা জেরা চলছে৷ গোয়েন্দাদের আশা, জেরার মুখেই বেরিয়ে আসবে সত্যিটা৷ অন্যদিকে, এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বেজিং।

লন্ডনের চিনা দূতাবাসের তরফে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। দূতাবাসের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, চিনের প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যে এসেক্সে একটি দল পাঠিয়েছে। তবে পুলিশ এখনও মৃতদেহগুলির সঠিক পরিচয় পায়নি বলে জানিয়েছেন চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র হুয়া চুনিং। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আশা করব খুব দ্রুত এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীকে ধরা হবে। কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি দেবে সে দেশের প্রশাসন।

বিবিসি জানাচ্ছে, পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে- বেলজিয়ামের জিব্রুগা বন্দর থেকে বুধবার গভীর রাতে টেমস নদীর পারফ্লিট বন্দরে আসে একটি ট্রলার। সেখান থেকে একটি লরি গভীর রাতেই বন্দর এলাকা ছেড়ে গেছিল৷ সেই লরিটি থেকেই এসেক্সে শহরের কাছে উদ্ধার হয় চিনা নাগরিকদের দেহ৷

মৃতদেহ শনাক্তের কাজ শুরু করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া লরি চালকের নাম রবিনসন৷ সে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের আর্মাগ কাউন্টির পোর্টাডাউনের বাসিন্দা। পুলিশ তাকে জেরা করছে৷ এসেক্স পুলিশ জানিয়েছে, গভীর রাতে অ্যাম্বুলেন্স কর্মীরা গ্রেইস শহরের ওয়াটারগ্লেইড পার্ক এলাকায় লরির ভেতরে মৃতদেহগুলি দেখতে পান। তার পরেই তদন্তে নামে পুলিশ৷

জানা গিয়েছে মৃতদের প্রত্যেকেই চিনা নাগরিক৷ কেন এক সঙ্গে এতজন চিনা নাগরিকের দেহ গোপনে লরি করে পাচার হচ্ছিল তাতেই সন্দেহ বেড়েছে৷ ব্রিটিশ ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি জানিয়েছে, মানবদেহ পাচারের সঙ্গে জড়িত কোনও গোষ্ঠী এতে জড়িত থাকতে পারে৷ তবে এটা প্রাথমিক অনুমান৷ এই লরি থেকে ৩৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিবিসি জানাচ্ছে, আটক করা লরিটি বুলগেরিয়ার বাসিন্দার নামে রেজিস্ট্রেশন করা৷ কিন্তু সেই ব্যক্তি আবার আইরিশ৷ লরির মালিকের সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে বুলগেরিয়া সরকারের সঙ্গে যোগাযাোগ করা হয়৷ চাঞ্চল্য কর এই দেহ উদ্ধারের ঘটনায় বুলগেরিয়ার বিদেশমন্ত্রক তথ্য দিয়ে সাহায্য করছে ব্রিটেনের অপরাধ দমন বিভাগকে৷

তদন্তে উঠে আসছে, ফ্রান্সের সীমান্ত পেরিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দিকে অনুপ্রবেশের দিকটি৷ ফ্রান্সের কালাইস বন্দর দিয়ে এন অনুপ্রবেশ হয়৷ সেখানে পাহারার কড়াকড়ি থাকায় ব্রিটেনের বিভিন্ন দিক দিয়ে অনুপ্রবেশের সঙ্গে এই চিনা নাগরিকদের যোগ আছে কিনা তাও বিচার্য৷ তবে এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে গোটা বিশ্বজুড়ে।