বেজিং: বিশ্ব জুড়ে তিন লক্ষেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। তাই একটা প্রতিষেধক এলে হয়ত তবেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে দুনিয়া। চেষ্টা চলছে বিভিন্ন দেশে। কোনও কোনও দেশে কিছুটা হলেও সাফল্য দেখা যাচ্ছে। যদিও কেউই এখনও চূড়ান্ত কোনও রিপোর্ট দেয়নি।

চিনে একাধিক গবেষণাগারে এই ভ্যাক্সিন তৈরির গবেষণা চলছে। করোনার উৎস চিন থেকে এবার ইতিবাচক ফলাফলের খবর আসতে শুরু করেছে। চিনে প্রথম করোনা ভ্যাক্সিনের হিউম্যান ট্রায়ালের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সেই ফল অনলাইনে পাবলিশ করা হয়েছে, যাতে তা সবাই দেখতে পায়।

ইউকে-র জার্নাল Lancet-এ সেই ফলাফলের খবর প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রাথমিকভাবে মানুষের উপর পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে যে ওই ভ্যাক্সিন নিরাপদ। ১০৮ জন স্বেচ্ছাসেবীর উপর এই ভ্যাক্সিনের পরীক্ষা করা হয়েছিল। তাদেরকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। একেকটি ভগে একেক রকম ডোজের প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে।

ভ্যাক্সিন দেওয়ার ২৮ দিন পর তাদের শরীরে কোনও প্রতিক্রিয়া হয়নি। অর্থাৎ, এটি যে মানুষের জন্য নিরাপদ, সেই প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তবে আরও গবেষণার পরই চূড়ান্ত ফলাফল জানানো হবে।

দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে ৫০৮ জনকে ভ্যাক্সিন দেওয়া হবে পরীক্ষামূলকভাবে। চিনের অ্যাকাডেমি অফ মিলিটারি মেডিক্যাল সায়েন্সের বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক চেন উই-এর নেতৃত্বে এই গবেষণা চলছে।

অন্যদিকে, অক্সফোর্ডের একটি টিম আগেই জানিয়েছে যে তাদের গবেষণা আশার আলো দেখাচ্ছে। এক পর্ব হিউম্যান ট্রায়াল বা মানুষের উপর পরীক্ষা আগেই হয়েছে। এবার শুরু হয়েছে দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল।

শুক্রবারই জানানো হয়েছে যে পরবর্তী পর্যাঅয়ের গবেষণা শুরু করেছে অক্সফোর্ডের ওই টিম। তার জন্য ১০,০০০ মানুষকে নিয়োগ করা হচ্ছে। যাদের উপর এই পরযীক্ষা করা হবে।

গত মাসে প্রথম পর্যায়ের এই ট্রায়াল শুরু হয়। ১০০০ জনের উপর পরীক্ষা করা হয়। সেখানে ৫৫ বছরের কম বয়সীদের নেওয়া হয়েছিল। তবে এবার প্রায় ১০,২০০ জনকে নিয়োগ করা হচ্ছে। এর মধ্যে বয়স্করাও থাকছেন। ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের উপরও ট্রায়াল চালানো হবে। পাশাপাশি ৫, এমনকি ২ বছরের শিশুর উপরও পরীক্ষা করে দেখা হবে।

ওই ভ্যাক্সিন বাঁদরের ক্ষেত্রে আশাজনক ফল দিয়েছে বলে জানা গিয়েছেন। গবেষণার নেতৃত্বে থাকা অধ্যাপক সারা গিলবার্ট বলেন, ইতিমধ্যেই বহু বয়স্ক মানুষ উৎসাহ দেখিয়েছেন। তাই তাঁদের এই গবেষণায় যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে এই গবেষণা চালানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

জানা গিয়েছে অক্সফোর্ডের এই গবেষণায় পরীক্ষামূলক ভাবে প্রতিষেধক দেওয়ার ২৮ দিনের মধ্যে প্রাণীদের শরীরে ইমিউনিটির লক্ষণ দেখা গিয়েছে। তবে কেবলমাত্র মানব শরীরে প্রয়োগ করার পরেই বোঝা যাবে এমনটা জানা গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে।