বেজিং: সংক্রমণের হার কমছে। এটাই আশার কথা। কিন্তুকরোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু বেড়েই চলেছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মারা গিয়েছেন ১৮৬৮ জন। এইভাবে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকলে অচিরেই দু হাজার পৌঁছে যাবে বলেই আশঙ্কা। চিনা স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট, মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭২ হাজার ৪৩৬ জন। গত বছর ডিসেম্বর মাস থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে চিনে। এছাড়া আরও ২৫টি দেশে ভাইরাস সংক্রামিত রোগীর সন্ধান মিলেছে। হচ্ছে মৃত্যু।

এদিকে চিনের প্রতিবেশী স্থল সীমান্ত লাগোয়া ১৪টি দেশের সরকার প্রবল আতঙ্কিত। এই ১৪টি দেশের মধ্যে রয়েছে ভারত ও তার সীমান্ত লাগোয়া চারটি দেশ- পাকিস্তান নেপাল, ভুটান, মায়ানমার। নেপাল ও ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রামিত রোগীর সন্ধান মিলেছে। তবে দুই দেশেই এই ভাইরাস ভয়াল আকার নেয়নি। ভাইরাস আক্রান্ত রেগীরা সুস্থ হচ্ছেন বলেই জানিয়েছে দুই দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রক। আর চিনা স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট, বুধবার পর্যন্ত মৃতের সংখা বৃদ্ধির প্রবণতা ভয়াবহ।

তবে সংক্রমণের সংখ্যা কমলেও বিশেষজ্ঞরা করোনাকে এখনও বিপদজ্জনক বলে মনে করছেন। বিবিসি ও জিনহুয়া জানাচ্ছে, হুবেই প্রদেশে আসা যাওয়া বন্ধ। বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে একই নিয়ম জারি করার পর সংক্রমণের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ভয়ঙ্কর করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে চিনের বেশিরভাগ এলাকায়। সেখান থেকেই আরও কিছু দেশে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। ফলে চিনের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সীমান্ত বন্ধ।

এমনকি একের পর এক দেশ চিনা নাগরিকদের ভিসা দেওয়া সাময়িক স্থগিত করেছে। চিনে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরোপ করা হয়েছে কড়া নিয়ম ও নিষেধাজ্ঞা। এই কড়া নিয়ম সীমিত করার ফলে ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া অনেকাংশে কমেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ভাইরাস ছড়ানোর কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় আপাতত বাণিজ্যিক আদান প্রদানও বন্ধ। এই ধাক্কা লাগছে চিনা অর্থনীতিতে। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী চিনা অর্থনীতি এখন কাবু করোনাভাইরাসের হামলায়।