জেনেভা: কোনও এক গোপন এলাকায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে অন্তত লক্ষাধিক উইঘুর মুসলিমকে। আর তার একাধিক প্রমাণ উঠে এসেছে রাষ্ট্রসংঘের হাতে। চিনে এভাবেই উইঘুর মুসলিমদের লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘের হিউম্যান রাইটস প্যানেল এই সংক্রান্ত রিপোর্টের কথা উল্লেখ করেছে। ‘রেসিয়াল ডিসক্রিমিনেশন’ বা বর্ণবিদ্বেষ সংক্রান্ত রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ কমিটির সদস্য জিএন ম্যাদুগল বলেন, চিনের জিনজিয়াং প্রদেশের পশ্চিম অংশে এক গোপন ‘রাজনৈতিক শিবির’ তৈরি করে উইঘুর মুসলিমদের জোর করে নীতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে চিন।

এই সংক্রান্ত একাধিক বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হাতে এসেছে বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রসংঘের ওই সদস্য। লুকিয়ে রাখা হয়েছে অন্তত ২০ লক্ষ উইঘুর মুসলিমকে।

তিনি আরও বলেন, ”চরপমন্থার বিরুদ্ধে লড়াই আর সমাজকে সুরক্ষিত করার নামে চিনে আসলে যা হচ্ছে, তা রীতিমত চিন্তার বিষয়। কোনও এক নো-রাইট জোনে বন্দি করে রাখা হয়েছে তাদের।” জেনেভায় এক সম্মেলনে এসে একথা বলেছেন ওই সদস্য। সম্মেলনে ৫০ জন চিনা প্রতিনিধি উপস্থিত থাকলেও, তাঁরা কোনও মন্তব্য করেননি।

ম্যাকদুগাল উইঘুরদের সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে এনেছেন। তিনি জানিয়েছে, এমন রিপোর্টও রয়েছে যে মিশর বা তুরস্ক থেকে শতাধিক উইঘুর মুসলিম ছাত্র চিনে ফিরলে তাদের বন্দি করে ফেলে প্রশাসন, এমনকি অনেকের হেফাজতে থাকাকালীন মৃত্যু হয়েছে বলেও খবর।

চিনের প্রশাসন বরাবরই উইঘুর মুসলিমদের উপর কঠোর মনোভাব পোষণ করে। প্রেসিডেন্ট জি জিংপিং একাধিকবার সংখ্যালঘুদের উপর নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশি নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। জিনজিয়াং প্রদেশ, যেখানে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা বেশি সেখানে বিশেষভাবে নজরদারির ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।

জিনজিয়াং অঞ্চলে মূলত চিনের মুসলিম উইঘুর সম্প্রদায়ের মানুষরা বসবাস করে৷ গত কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলে রোজা রাখার উপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে চিনের কমিউনিস্ট সরকার৷

চিনের দাবি, তাদের খবর রয়েছে যে সিরিয়া ও ইরাকে গিয়ে চিনাদের আইএসে যোগ দেওয়ার সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। আর সেইজন্যই আরও সতর্ক হয়েছে চিন সরকার। চিনে আইএস হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে একাধিকবার। তারপরই আরও কড়া হয়েছে বেজিং।