মুম্বই: চিনা পোশাক বর্জন করে, ভারতে তৈরি পোশাকের বাজার তৈরি করতেই রফতানি শুল্ক দ্বিগুণ করেছে নয়াদিল্লি। তাই এবার ঘুরপথে ভারতের বাজারে প্রবেশ করার চেষ্টা চালাচ্ছে বেজিং। বাংলাদেশের মাধ্যমে ভারতে ঢোকানো হচ্ছে চিনা বস্ত্র।

গত মঙ্গলবার চিনা বস্ত্রে শুল্ক দ্বিগুণ করেছে ভারত। অন্তত ৩০০টি টেক্সটাইল প্রোডাক্টে ১০ শতাংশ থেকে শুল্ক বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের জন্য বাড়ানো হয়েছে এই শুল্ক। আর এই শুল্ক বাড়ানোর একটাই উদ্দেশ্য, ভারতের বস্ত্রশিল্পের সম্ভাবনা বাড়ানো। তথ্য বলছে, ভারতে এই শিল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কর্মীর সংখ্যা পাঁচ কোটিরও বেশি। ভারতের জিডিপি-র পাঁচ শতাংশ আসে এই শিল্প থেকে, রফতানি করে আসে আরও ১৩ শতাংশ।

তবে এবার ঘুরপথে ভারতে বস্ত্রশিল্পের বাজারে প্রবেশ করছে চিন। রয়টার্সে রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাংলাদেশে ভায়া হয়ে বস্ত্রশিল্পের ক২আচা মাল চিন থেকে আসছে ভারতে। আর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ‘ফ্রি ট্রেড’ চুক্তি হয়েছে। ফলে ভারতের ১০ হাজার কোটির টেক্সটাইলের বাজারে অনায়াসে ব্যবসা করতে পারছে বাংলাদেশ। ফলে বাংলাদেশ থেকেই ভারতে আসছে চিনের কাপড়, লাগছে না কোনও শুল্ক। ‘কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধার সঞ্জয় জৈন রয়টার্সকে বলেন, ”চিন থেকে কোনও শুল্ক ছাড়াই ভারতের মাটিতে পৌঁছে যাচ্ছে কাপড়।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের নয়া পদক্ষেপ আদতে চিনা বস্ত্র আটকানোর জন্য যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশ রেডিমেড জামাকাপড় রফতানিতে বিশ্বে দ্বিতীয়। গত মার্চ পর্যন্ত সেই বাংলাদেশের শাড়ি ও গয়না ভারতে রফতানির পরিমাণ ৪৩ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে তৈরি পোশাকের ৪০-৫০ শতাংশ তৈরি হয় চিনের কাপড় দিয়ে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়া ‘ফ্রি ট্রেড’ এগ্রিমেন্টে সংযুক্ত রয়েছে ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা।