নয়াদিল্লি: রাজ্যসভায় বিবৃতি দিচ্ছেন রাজনাথ সিং। তিনি জানিয়েছেন, লাদাখে ভারতীয় ভুখন্ডের ৩৮ হাজার বর্গ কিমি জুড়ে চিন সেনার অবস্থান। এমনটাই জানালেন রাজনাথ সিং।

রাজ্যসভায় তিনি বলেন যে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখে অন্তত ৩৮,০০০ বর্গ কিমি এলাকা বেআইনি ভাবে দখল করে রেখেছে চিন। এর পাশাপাশি তথাকথিত ১৯৬৩-র Sino-Pakistan Boundary Agreement অনুযায়ী পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৫১৮০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা পাকিস্তান চিনকে দিয়েছে ফের মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় লাদাখে চিন-ভারত টেনশন প্রসঙ্গে বিবৃতি দিতে গিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, বিশ্বের কোনও শক্তি লাদাখে ভারতীয় সেনার টহলদারি আটকাতে পারবে না। ভারতীয় সেনার টহলদারি আটকানোর জন্য চিনা বাহিনীর চেষ্টাই লাদাখে সংঘাতের কারণ। পূর্ব লাদাখে ভারতীয় সেনাবাহিনীর টহলদারির ধরণও বিন্দুমাত্র পরিবর্তিত হবে না বলে এদিন বিরোধীদের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়ে দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, চিন মুখে যা বলে এবং কাজে যা করে তার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেন রাজনাথ সিং। চিনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে বিশ্বাসঘাতকতা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত বলে এদিন সরকারকে সতর্ক করে দেন রাজ্যসভার অনেক সদস্যই। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাশে সবাই আছেন বলে জানিয়ে দেন রাজ্যসভার সদস্যরা।

সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও মজবুত করতে ভারত গত কয়েক বছরে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে বলে জানান রাজনাথ সিং। তিনি আরও বলেন, যে গলওয়ানের সংঘাতের পর লাদাখে গিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলে প্রধানমন্ত্রী এই বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে গোটা দেশ তাঁদের পাশে আছে। মস্কোর বৈঠকে চিনের বিদেশমন্ত্রীর কাছে চিনা বাহিনীর আগ্রাসন নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে জানিয়েছেন রাজনাথ সিং।

এর আগের দিনও সংসদে লাদাখ প্রসঙ্গে বিবৃতি দিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে বলেছিলেন, লাদাখের ৩৮,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা দখল করে রয়েছে চিন। ১৯৬৩ সালের চিন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিতে পাকিস্তান বেআইনি ভাবে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৫,১৮০ বর্গকিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ড চিনের হাতে তুলে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, মুখে শান্তির কথা বললেও সীমান্তে খালি লোকবল ও অস্ত্রশস্ত্র বাড়াচ্ছে চিন। সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য একই পথে যাচ্ছে ভারত। কিন্তু এর ফলে ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে সীমান্ত। প্যাংগংয়ের দক্ষিণ প্রান্তে অনেক গুরুত্বপূর্ণ চুড়োর দখলও এখন ভারতের হাতে। ফলে খেলা অনেকটাই ঘুরেছে।

এদিকে, লোকসভায় রাজনাথের বক্তব্যের পরেই তর্জন গর্জন শুরু হয় চিনের। বেজিংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয় যুদ্ধ অথবা শান্তি, চিন দুই রাস্তাতেই হাঁটতে রাজি। চিনের জাতীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের এক প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে জানানো হয় চিনা সেনার চাপেই নাকি ভারতীয় সেনা সীমান্তে শান্তির কথা বলছে। ভারত চিনের চাপেই শান্তির বার্তা দিচ্ছে।

গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে জানানো হয় ভারত বুঝতে পারছে চিনের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে যাওয়া হলে, তাদেরই ক্ষতি। তবে শান্তির বার্তা দিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। লোকসভায় বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, কোনও ভাবেই চিনের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক চাইছে না ভারত।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।