ঢাকা:  ক্রমশ ভয়াবহ চেহারা নিচ্ছে করোনা ভাইরাস। চিনের উহান থেকে এই মারণ এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লেও এখন গোটা পৃথিবীকে গ্রাস করেছে। একের পর এক দেশে ভয়াবহ আকার নিয়েছে মারণ এই রোগ। ভারতেও ক্রমশ আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ক্রমশ খারাপ অবস্থা প্রতিবেশী বাংলাদেশে। সে দেশে বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। আশঙ্কা যে কোনও মুহূর্তে কমিউনিটি সংক্রমণ ঘটতে পারে সে দেশে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে চায় কমিউনিস্ট চিন।

করোনা মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা করতে মেডিক্যাল টিম ও চিকিৎসা সামগ্রী পাঠাতে প্রস্তুত সে দেশ। পাশাপাশি সে দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংস্থা বাংলাদেশকে সবরকম সাহায্য দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এর আগে, সুরক্ষা সামগ্রী, মাস্ক, থার্মোমিটারসহ বিভিন্ন মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট বাংলাদেশকে দিয়েছিল চিন। এবার সরাসরি সাহায্যের প্রস্তাব কমিউনিস্ট চিনের দিক থেকে। বাংলাদেশে থাকা চিনে দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়ে জানানো হয়।

এরপরেই বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই’র মধ্যে ৪৫ মিনিট টেলিফোনে আলোচনা হয়। সেই সময় চিনের তরফে ফের একবার বাংলাদেশকে সবরকম সাহায্যের প্রস্তাব দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, চিনের বিদেশন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য চিন সব ধরনের তথ্য, অভিজ্ঞতা এবং মেডিক্যাল টিম পাঠাতে প্রস্তুত। চিনে যখন এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছিল তখন বাংলাদেশ চিনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।

এখন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ায় চিন মনে করে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরোধমূলক ও ভবিষ্যতে এর সংক্রমণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ওয়াং টেলিফোনে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীকে বলেন, একটি দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে চিন বাংলাদেশসহ অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে একসঙ্গে এই ভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করবে। শুধু তা-ই না, এর ফলে বিশ্বে অর্থনীতিতে যে প্রভাব পড়বে, তা মোকাবিলা করার জন্য স্বাভাবিক আন্তর্জাতিক শিল্পগত সহায়তা বজায় রাখা এবং এই অঞ্চল ও বিশ্বের মানুষের সুরক্ষার জন্য কাজ করবে চিন।

ওয়াং আশা প্রকাশ করেন, কোভিড-১৯ ভাইরাস মোকাবিলায় যৌথ প্রয়াসের কারণে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং বাংলাদেশে এই মুহূর্তে থাকা চিনের নাগরিকদের দেখভাল করার জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চিন কোভিড-১৯ মোকাবিলায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে জানিয়ে মোমেন বলেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার মাধ্যমে এটি আবার প্রমাণিত হল চিন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নির্ভরযোগ্য বন্ধু ও অংশীদার। করোনাভাইরাস ছাড়াও চিন এবং বাংলাদেশ রাখাইন নিয়ে আলোচনা করে।